নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে ‘আমি চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হলে সবার ঘরে ঘরে বিনা টাকায় গাঁজা-ইয়াবা ফ্রিতে দেব’—এমন ঘোষণা সংবলিত পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। পোস্টারগুলোতে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান খোকনের ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এসব পোস্টার তিনি লাগাননি বলে দাবি করেছেন খোকন। তার অভিযোগ, তাকে হেয় করতে জামায়াতে ইসলামী ষড়যন্ত্র করে এসব পোস্টার লাগিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাদপুর গ্রামের বিভিন্ন দেয়ালে পোস্টারগুলো দেখা যায়।
পোস্টারে খোকনকে ‘গাঁজার ডিলার’ হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ‘বেকারের জন্য গাঁজা ভাতা’, ‘মাদকসেবীদের জন্য বিশেষ কার্ড’, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ফ্রি সাপ্লাই’, ‘থানা-পুলিশ আমার ভাই’ এবং ‘উন্নয়ন হবে, আগে চাঁদা হবে’—এমন বিভিন্ন স্লোগানও রয়েছে।
পোস্টারগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মাসুদুর রহমান খোকন সিরাজপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল ভূঞা বাড়ির মো. আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি ২০১৫ সাল থেকে দুই দফায় ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আবারও ওই ওয়ার্ডের সভাপতি পদপ্রার্থী।
নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে পোস্টার লাগানোর বিষয়ে খোকন বলেন, কয়েক দিন আগে তার ছেলে চাঁন মিয়াকে স্কুলে চড় দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাসেমের সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
খোকনের ভাষ্য, ‘আমার সঙ্গে মাদকের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দল ক্ষমতায় এলেও আমি আগের মতো গাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করি। সমাজের মানুষ সব জানে। এমনকি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী নই।’
অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম বলেন, খোকনকে ঘিরে তার দলের মধ্যেই মাদকসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্কুলে খোকনের ছেলে তাদের বাড়ির এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করায় তার ছেলে তাকে চড় দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়।
তবে পোস্টার লাগানোর সঙ্গে তিনি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য জড়িত নন বলে দাবি করেন আবুল হাসেম।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল হাকিম বলেন, ‘পোস্টারের বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর