নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, ইনক্রিমেন্ট, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।
নতুন পে স্কেলের উল্লেখযোগ্য সাতটি পরিবর্তন হলো—
১. মূল বেতন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ
নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে গ্রেডভেদে বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেতন বাড়বে।
২. গ্রেডভেদে কমবে ইনক্রিমেন্ট
বর্তমানে গ্রেড নির্বিশেষে বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোতে ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট থাকছে। পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, উচ্চ গ্রেডে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ইনক্রিমেন্টের হার কমবে।
৩. বাড়িভাড়ার শতাংশ কমলেও বাড়তে পারে টাকার অঙ্ক
ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ। নতুন পে স্কেলে তা ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভারে বর্তমান ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ থেকে কমে ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হতে পারে।
তবে মূল বেতন বড় হওয়ায় বাড়িভাড়ার শতাংশ কমলেও প্রকৃত টাকার অঙ্কে ভাতা বাড়তে পারে।
৪. চিকিৎসা ও কয়েকটি ভাতা বাড়ছে
নতুন কাঠামোতে চিকিৎসা ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৫০ বছর পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে ৩ হাজার টাকা, ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার টাকা পাবেন। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনারদের ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ থেকে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
৫. মোবাইল ভাতায়ও পরিবর্তন
ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বর্তমান ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল বিল কমিয়ে ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
৬. ১০ বছরের বদলে ৮ বছরেই উচ্চতর গ্রেড
বর্তমানে একই গ্রেডে ১০ বছর চাকরি করলে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন পে স্কেলে সেই সময় কমিয়ে ৮ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পেতে আগের মতো ছয় বছর একই গ্রেডে চাকরির শর্ত থাকবে। আর পদোন্নতির সুযোগ নেই—এমন ব্লকড পদে চাকরিজীবনে মোট তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
৭. বাতিল হবে ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা
নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে ২০২৪ সালে চালু হওয়া সরকারি চাকরিজীবীদের ১০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হবে। অর্থাৎ নতুন কাঠামোয় মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাড়লেও বর্তমান বিশেষ প্রণোদনাটি আর থাকবে না।
নতুন পে স্কেল একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। মূল বেতন তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। আর সব ধরনের ভাতা পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জানুয়ারি। পুরো কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তিন বছরে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর