ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলামের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ মে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দল ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৯০০ নেতার সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পর থেকেই মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে আসাদুজ্জামান আসলামও রয়েছেন। নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে তার নাম সামনে এসেছে। তবে দক্ষিণ যুবদলের চূড়ান্ত নেতৃত্ব নির্ধারণে দলীয় সিদ্ধান্তই কার্যকর হবে।
জানা যায়, ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন আসলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন তিনি। পরে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে জবি ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পান।
দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, তার নেতৃত্বে জবি ছাত্রদল বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ক্যাম্পাসে সংগঠনটির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনেও জবি ছাত্রদলের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা।
বিশেষ করে ৪ আগস্ট সিএমএম আদালত ঘেরাও কর্মসূচিতে আসলামের নেতৃত্বের বিষয়টি সামনে আসে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরান ঢাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হামলা, মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন আসলাম। দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন সময়ে হামলায় আহত হওয়া, পুলিশের লাঠিচার্জে কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনে ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে তিনি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “ছাত্রদলের চরম দুঃসময়ে আসলাম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামে তার অবদান ছিল অপরিসীম। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও অনন্য মেধা, সততা ও অসাধারণ বিনয় তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং সমাদৃত করে তুলেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “আসলামের মতো বিনয়ী ও অমায়িক ছাত্রনেতা সমসাময়িক রাজনীতিতে সত্যিই বিরল। একাধারে মেধাবী ও কঠোর পরিশ্রমী এই তরুণের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি রয়েছে। ছাত্ররাজনীতি করার পাশাপাশি সে টিউশনি করত বলেও শুনেছি, যা আজকের তরুণদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক বলেন, “আসলাম অত্যন্ত ভদ্র, মানবিক ও মিশুক একজন মানুষ। একজন ছাত্রনেতার মধ্যে যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, তার প্রায় সবই তাঁর মধ্যে রয়েছে। তিনি শিক্ষিত, মার্জিত ও শিষ্টাচার সম্পর্কে সচেতন। কাকে কীভাবে সম্মান করতে হয়, ছোটদের প্রতি কীভাবে স্নেহ দেখাতে হয় এবং বড়দের কীভাবে মর্যাদা দিতে হয়—এসব বিষয়ে তিনি অন্যদের জন্য অনুসরণীয়।”
তিনি আরও বলেন, “অন্য নেতাদেরও আসলামের কাছ থেকে এসব গুণ শেখা উচিত। তিনি নেতা হিসেবে একটি রোল মডেল ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিনি একজন মূল্যবান সম্পদ ছিলেন। ভবিষ্যতেও যদি এ ধরনের মানবিক, শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব সামনে আসে, তাহলে তারা দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।”
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, “আমি পদকে লক্ষ্য হিসেবে দেখি না। সংগঠনের জন্য কাজ করাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পেয়েছি। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে এবং এখনো চিকিৎসা চলছে। অসংখ্যবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। এখন দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব দেওয়ার উপযুক্ত মনে করে, তাহলে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সময় যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেটি কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও নেতাকর্মীবান্ধব করার চেষ্টা থাকবে। তরুণদের সংগঠিত করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।”
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর