পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ‘জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন’।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের অনুপস্থিতিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বরাবর ছাত্র ইউনিয়ন জাবি শাখার সভাপতি অদ্রি অংকুর, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সজীব আহম্মেদ জেনিচ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সুমা ডুমরী ও জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান অর্ক বলেন, 'আমরা ইতিপূর্বে বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি যে কাঙ্ক্ষিত মাস্টারপ্ল্যানের কাজ বেশ অগ্রগতি লাভ করেছে এবং খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, প্রশাসন এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে পুনরায় অপরিকল্পিত কাজের দিকে এগোচ্ছে।'
মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে ফুটপাত, পার্কিং সুবিধা এবং সাইকেল ট্র্যাকের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণ ও উদ্বোধনের পাইতারা চালানো হচ্ছে।
অর্ক বলেন, 'আমরা এই পরিবেশবিরোধী ও অপরিকল্পিত কাজের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত কর্মসূচি পুরোপুরি পালন করা সম্ভব না হলেও, আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনিক সতর্কবার্তাসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছি।'
জাহাঙ্গীরনগর বাঁচা আন্দোলনের সংগঠক সানজিদা আফরিন বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যেন মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে দিয়েই হয় সেটাই আমাদের একমাত্র দাবি। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে রাস্তা প্রশস্থকরণ,ফুটপাত ও সাইকেল লেন নির্মানের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, আমরা এগুলোর বিরুদ্ধে না কিন্তু টিএমসি কমিটির অনুমোদন না দিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতির এসেসমেন্ট না করে এই ধরনের কাজ শুরু করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে বলে আমরা মনে করছি। তাই আমরা দাবি করছি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করার আগে পর্যন্ত কোনো ভাবে নতুন করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ করা যাবে না।'
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপরিকল্পিত ক্যাম্পাসে রূপান্তরের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। অথচ এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আগের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনগণের অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে।'
তিনি বলেন, “আমরা শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ফুটপাতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পক্ষে। তবে এসব কাজ অবশ্যই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় হতে হবে। মাত্র কয়েক মাস অপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার পরিবর্তে কেন অপরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সংগঠক সোমা ডুমরি বলেন, 'জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপরিকল্পিত ক্যাম্পাসে রূপান্তরের দীর্ঘ আন্দোলনের ফল হিসেবে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। অথচ এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগেই আগের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ তড়িঘড়ি করে ব্যয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে জনগণের অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে অসঙ্গতি তৈরি হতে পারে।'
তিনি বলেন, “আমরা শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব, ফুটপাতসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পক্ষে। তবে এসব কাজ অবশ্যই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় হতে হবে। মাত্র কয়েক মাস অপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে কাজ করার পরিবর্তে কেন অপরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর