আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন বইয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার বিষয়ও রাখা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিভিন্ন স্তরের বই পরিমার্জন করা হয়েছে। এর অন্যতম আলোচিত সংযোজন নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ। নিবন্ধটির সঙ্গে ওই সময়ের তাঁর একটি ডায়েরির ছবিও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি) অনুমোদন করেছে।
নিবন্ধটিতে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি, প্রতিরোধের প্রস্তুতি, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যদের সংগঠিত করা, ‘উই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহের সিদ্ধান্ত এবং কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের বিষয়ে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস
প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের ‘আমাদের স্মরণীয় নেতা’ অধ্যায়ে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জীবনী যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাধ্যমিকের বিভিন্ন শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘উই রিভোল্ট’ বিদ্রোহ, স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ যুক্ত হচ্ছে। অষ্টম শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ব্রিগেড ফোর্সের বিষয়ও রাখা হচ্ছে।
নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রসত্তা বিনির্মাণের স্থপতিবৃন্দ’ নামে একটি নতুন অধ্যায় রাখা হচ্ছে। এতে রাজা গোপাল, ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ, মীর নিসার আলী তিতুমীর, নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ঈশা খাঁ, শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানী, শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে পাঠ থাকছে।
একই শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ বইয়ে ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ ও গণতান্ত্রিক বিকাশ’ নামে নতুন অধ্যায়ে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন শাসনকাল ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের কয়েকটি প্রতিরোধ যুদ্ধ এবং জিয়া স্মৃতি জাদুঘর নিয়েও পাঠ রাখা হচ্ছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও পাঠ্যবইয়ে
২০২৭ সালের বইয়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ে ‘শহিদ আনাসের কথা’ শীর্ষক গদ্য এবং নবম-দশম শ্রেণির ইতিহাসভিত্তিক বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও তাৎপর্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর’ ও ‘জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নিয়েও পাঠ যুক্ত হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২৫ সালের বইয়ে বিভিন্ন শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য যুক্ত করা হয়েছিল।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বলেছেন, ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে। তথ্য ও প্রামাণ্য সূত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিহাস তুলে ধরাই এ পরিমার্জনের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর