মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজি চালক আবুল কালাম বলাইকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূ ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুড়ী নদী থেকে তাঁর লাশ উদ্ধারের পর রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূ আছমা বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত বলাই উপজেলার পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড়ধামাই গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার দুজন হলেন পাশের গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা আছমা বেগম (৩৮) ও তাঁর মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের কে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলাই দুটি বিয়ে করেছেন। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আছমার ননদ। আছমার স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। সংসারের খরচ চালাতে তিনি একটি সিএনজি কেনেন। সেটি ভাড়ায় চালাতেন বলাই। এ কারণে তিনি প্রায়ই আছমাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে আছমার সঙ্গে বলাইয়ের অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। গত মঙ্গলবার রাতে বলাই আছমাদের বাড়িতে যান। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সুরতহাল প্রতিবেদনে লাশের গলায় একাধিক কোপের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে স্বজনেরা লাশটি বলাইয়ের বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় বলাইয়ের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর বলাইয়ের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও তাঁর মেয়ে লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আছমার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তাঁর সঙ্গে বলাইয়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়। বলাই তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এতে আছমা রাজি না হলে তাঁদের সম্পর্কের কথা প্রচার করে দেবেন এবং তাঁর মেয়ের ক্ষতি করবেন বলে হুমকি দেন বলাই। পরে বলাই ঘুমিয়ে পড়লে রাত তিনটার দিকে আছমা ধারালো দা দিয়ে তাঁর গলায় একাধিক কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই বলাইয়ের মৃত্যু হয়। এরপর মেয়েকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে একটি কলাগাছের সঙ্গে বেঁধে লাশটি টেনে নিয়ে ঘর থেকে প্রায় ১০০ ফুট দূরে নদীতে ফেলে দেন তাঁরা।
ওসি আরও জানান, আছমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত দা এবং ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। মামলায় আছমা ও লিমাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য মৌলভীবাজারের সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর