খাদ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি। তাই খাবারের বিষয়ে ইসলামে রয়েছে নানা সুন্নত, আদব ও শিষ্টাচার। খাবার গ্রহণের সময় কীভাবে আচরণ করতে হবে, তা নিয়েও মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রচলিত ধারণা রয়েছে।
এর মধ্যে একটি বহুল প্রচলিত কথা হলো—‘খাওয়ার সময় কথা বলা যাবে না’ কিংবা ‘খাবার খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া নিষেধ’। অনেকের ধারণা, এমনটি হাদিসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? খাওয়ার সময় কথা বলা বা সালাম দেওয়া কি গুনাহ?
এ বিষয়ে শরিয়তের নির্দেশনা তুলে ধরেছেন ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ। তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক আলোচনায় তিনি বলেন, খাবার খাওয়ার সময় কথা বলা বা সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ নয়।
খাওয়ার সময় কথা বলা যাবে?
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, খাবার গ্রহণের সময় কথা বলা নিষিদ্ধ—এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই। বরং নির্ভরযোগ্য হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা খাবার গ্রহণের সময় কথাবার্তা বলেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বুখারি ও মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে রয়েছে—নবীজি (সা.) খাবার গ্রহণের সময় কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে তাঁর মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে কথা বলেছেন। অর্থাৎ, খাবারের সময় কথা বলা নিজেই নিষিদ্ধ নয়।
তবে খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কথা বলে যদি কারও অসুবিধা হয়, খাবারে অমনোযোগ তৈরি হয় কিংবা কোনো ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই উত্তম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া যাবে?
‘খাবার খাওয়ার সময় সালাম দেওয়া যাবে না’—এমন ধারণাকেও সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
তার ভাষ্য, সালাম দেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে একজন মুসলমান অন্য মুসলমানকে সালাম দিতে পারেন। খাবার গ্রহণের সময়ও এর ব্যতিক্রম নেই।
তিনি বলেন, খাবার খাওয়ার সময় কাউকে সালাম দেওয়া যেমন বৈধ, তেমনি সালামের উত্তর দেওয়াও বৈধ। খাবার গ্রহণের কারণে সালাম নিষিদ্ধ হয়ে যায়—এমন কোনো বিধান নেই।
তাহলে প্রচলিত ধারণার ভিত্তি কী?
খাবার খাওয়ার সময় কথা বলা বা সালাম দেওয়া নিষেধ—এমন ধারণা সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত হলেও এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য হাদিসের প্রমাণ নেই। বরং ইসলামের মূলনীতি হলো, কোনো বিষয়কে হারাম বা নিষিদ্ধ বলতে হলে তার পক্ষে শরিয়তের স্পষ্ট দলিল থাকতে হবে।
তাই খাবারের সময় কথা বলা কিংবা সালাম দেওয়াকে সরাসরি গুনাহ বা নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে খাবারের আদব, শালীনতা ও অন্যের প্রতি সম্মান বজায় রাখা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর