ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করলে ভারত মহাসাগরজুড়ে মার্কিন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে ইরান।
গতকাল শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসে আলী মোহাম্মাদি বলেন, “আরেকটি যুদ্ধ শুরু হলে আমরা নিঃসন্দেহে তাদের জাহাজ ও ডেস্ট্রয়ারগুলোতে হামলা চালাব এবং সেগুলো ধ্বংস করব, এমনকি ভারত মহাসাগরেও।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে ইরানের দেয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক হামলা শুরুর প্রথম দিনগুলো থেকেই হরমুজ প্রণালি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, বিশ্বের তেল চাহিদার এক-পঞ্চমাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই কৌশলগত জলপথের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে।
মোহাম্মাদি বলেন, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলো আইআরজিসি নৌবাহিনীর নজরদারির আওতায় রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করছে—এমন দাবিগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি দাবি করে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে তাদের একটি যুদ্ধজাহাজ এখানে নিয়ে আসুক।”
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হরমুজ প্রণালিকে “ট্রাম্প স্ট্রেইট” নামে চিহ্নিত করে একটি মানচিত্র প্রকাশ করার পর মোহাম্মাদি প্রশ্ন করেন, “ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালিকে নিজের মনে করেন, তাহলে তার যুদ্ধজাহাজ ও অন্যান্য জাহাজ এখানে নেই কেন?”
এদিকে, এই কমান্ডার ইরানের স্বার্থ রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় নতুন কৌশল, সরঞ্জাম ও পরিচালন পদ্ধতি গ্রহণ করে তারা নিজেদের প্রস্তুত করেছে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার ঘটনাপ্রবাহের ফলে বিদেশি শক্তিগুলোর সামরিক উপস্থিতি কমে আসবে এবং শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরকে আধিপত্যবাদী শক্তিমুক্ত করার লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে।
ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি অপরাধমূলক আগ্রাসনের জবাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে।
১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরাসরি ইরানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
তবে ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনপথটির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে ইরানের ওপর পুনরায় বিমান হামলা শুরু করে এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তি লঙ্ঘন করে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের এসব বেআইনি পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে ইরান হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌ চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।
এ ছাড়া, মোহাম্মাদি তার বক্তব্যে বলেন, ইরানের সফল পাল্টা হামলায় মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত হওয়া এবং এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে নজরদারির ওপর ক্রমেই বেশি নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, “অতীতের সংঘাতগুলো প্রমাণ করেছে যে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত যেকোনো শক্তিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়েছে।”
সূত্র- পার্সটুডে
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর