বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা এন্ট্রি পারমিশন এবং বিমানের টিকিট থাকার পরও তিন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে নেপাল যেতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইমিগ্রেশন পুলিশকে আবেদনকারীদের অভিযোগ সাত দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ওই তিন নারীকে যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়েও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিন নারীর করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল কাদের ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশনা দেন।
রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী তানজিলা রহমান জুই।
রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে শুধু অবিবাহিত হওয়া, অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণ বা এ ধরনের লিঙ্গভিত্তিক বিবেচনায় যেন বাধা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে যথাযথ নির্দেশনা জারির নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), অতিরিক্ত আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, তিন নারীর বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা অন্য কোনো আইনগত প্রতিবন্ধকতা ছিল না। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও বিমানবন্দর থেকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়নি।
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিবাহিত নাকি অবিবাহিত কিংবা তার সঙ্গে বাবা-মা বা কোনো অভিভাবক আছেন কি না—এসব বিষয় বৈধ বিদেশযাত্রা বন্ধ করার স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের বাধা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে থাকা সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর