ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭ দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে জি-৭ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়া হবে। এরই মধ্যে যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মজুত ছাড়ার পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোকেও এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস ধরে চলবে। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জি-৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে।
তবে কোন দেশ কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কোন কোন দেশ এতে অংশ নেবে, সেটিও স্পষ্ট করেনি জি-৭। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়েও আইইএর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইউরোপ তাদের বিপুল মজুত থাকা ডিজেল তেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রক্রিয়াটি তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার জার্মানি ও ফ্রান্সকে জরুরি ডিজেল মজুত কমানোর জন্য চাপ দিয়েছিল। অন্যথায় ইউরোপে মার্কিন ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে রয়টার্স।
জি-৭-এর বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি পণ্যের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকেরা নির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের বদলে রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখছেন। এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, বড় অঙ্কের মজুত ছাড়ার ঘোষণা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় চলতি বছর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো জরুরি মজুত থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আইইএর সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিল বলে আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান হবে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ডিজেল ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশের সমান।
মজুত ছাড়ার খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচারের দাম কমেছে। শুক্রবার তা ৪ শতাংশের বেশি কমে গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৪৪৯১ ডলারে নেমে যায়। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারের দামও প্রতি মেট্রিক টনে ৯০ ডলারের বেশি কমেছে।
এর আগে মার্চে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হলে আইইএর সমন্বয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জরুরি মজুত ছাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় ৩২ সদস্যের আইইএ প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল কৌশলগত জ্বালানি মজুত বাজারে ছাড়ে। আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল চলতি সপ্তাহে জানিয়েছেন, ওই মজুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর