নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। এরপর গত ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের (এমপি হোস্টেল) একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এখন কারাগারে আছেন নজরুল। জামায়াত বলছে, নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো এমপি পদে রয়েছেন তিনি।
এছাড়া নারী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করে মানহানির মামলার আসামি জামায়াতের সংসদ-সদস্য মুফতি আমির হামজা। এছাড়াও একজন মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ বলে মন্তব্য করায় আরেকটি মানহানির মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। কিন্তু এই এমপির বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।
তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায় থেকে দাবি করা হচ্ছে, এত কুইক অ্যাকশন কোনো দলে নেই।
অন্যদিকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র) ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই এলাকার সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর নির্দেশনায় মিষ্টি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া ওই ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করেছে বিএনপি। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির তিনজন এবং ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া দলের ভেতরে শুদ্ধিঅভিযানও শুরু করেছে বিএনপি।
এদিকে কয়েকজন সংসদ-সদস্যসহ জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতাকর্মীর বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে নানা প্রশ্ন উঠছে। ধর্মভিত্তিক কঠোর সাংগঠনিক কাঠামো ও শক্ত চেইন অব কমান্ডের কারণে অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি বা অসন্তোষ প্রকাশ্যে খুব একটা দৃশ্যমান না হলেও বিভিন্ন ঘটনায় দলটি চাপে পড়ছে। ভোটার-সমর্থক না হলেও আদর্শিক কারণে যারা এতদিন দূর থেকে জামায়াতকে পছন্দ করতেন, তাদের একটি অংশের মধ্যেও দলটি নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। ফলে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সরব থাকার পাশাপাশি ঘরে-বাইরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে জামায়াতকে।
তবে জামায়াতের নীতিনির্ধারকরা এসব অভিযোগ ও সমালোচনার সঙ্গে একমত নন। তাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দিয়ে পুরো দলের অবস্থান মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কয়েকজনও বলছেন, ব্যক্তির ভুল বা বিতর্কের দায় পুরো দলের ওপর চাপানো সমীচীন হবে না। বরং অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি আসনে জয় এবং প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ৯টি সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার পর সংসদে বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখছে জামায়াতে ইসলামী। এর মধ্যেই দলটির কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে দলটিকে। বিশেষ করে এক সংসদ-সদস্যের নারীঘটিত ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণ, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো অভিযোগও উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ দলটির ঘোষিত আদর্শ ও নৈতিক অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংসদ-সদস্য নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী-কাণ্ড
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের অবতারণা হয়। ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে অল্পবয়সি এক মেয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হয় ২১ জুলাই। পরে তিনি ওই তরুণীর নাম মরিয়ম উল্লেখ করে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীও মিডিয়ার সামনে দাবি করেন যে, উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে। মরিয়মও নিজেকে সংসদ-সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিকস্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে জামায়াত তার সদস্যপদ বাতিল করার জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি দেয়। যদিও তার সদস্যপদ এখনো বাতিল হয়নি। পরে ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে মরিয়ম বেগমের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায় তারই ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে। এ মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।
আমির হামজার বিতর্কিত যত ঘটনা
ইসলামি বক্তা ও সংসদ-সদস্য মুফতি আমির হামজার কিছু বিতর্কিত ও সমালোচিত মন্তব্য এবং ঘটনা রয়েছে, যা জামায়াতের তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। চলতি বছরের মার্চের শেষদিকে কুষ্টিয়া সদরের একটি মসজিদে জুমার আগে দেওয়া বক্তব্যে নারী সংসদ-সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর ও বডি শেমিং মন্তব্য করায় আমির হামজার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এই মন্তব্যের জেরে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও করা হয়। প্রায় একই সময়ে কুষ্টিয়ায় দেওয়া এক বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই মন্তব্যের জন্য সিরাজগঞ্জে তার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা ও সমন জারি করা হয়।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সম্পর্কে একটি ওয়াজে অসত্য ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করার অভিযোগ ওঠে। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং সেখানে হলে শিক্ষার্থীরা মদ্যপান ও শিক্ষকদের মারধর করত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তাকে লিগ্যাল বা উকিল নোটিশ পাঠায়।
সংসদ-সদস্যের মেয়ের নামে অনুদান বরাদ্দ
নড়াইল-২ আসনের সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের মেয়ের নামে দুই দফা ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বরাদ্দের ক্ষেত্রে নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সংসদ-সদস্য দাবি করেন, তার প্যাডে দেওয়া অগ্রিম স্বাক্ষর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সহকারী তালিকা তৈরি করেছিলেন। এ কারণে তিনি ব্যক্তিগত সহকারীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজন সভাপতি
রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ-সদস্য মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনকে সভাপতি করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া খুলনা-৬ আসনের সংসদ-সদস্য আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে।
এদিকে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরপরই বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নেয় জামায়াতের হাইকমান্ড। পরে সংসদ-সদস্যের কাছে লিখিত নির্দেশনা পাঠায় জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্বাক্ষরে পাঠানো ওই নির্দেশনায় সরকারি অনুদান, ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোকজন, ব্যক্তিগত সহকারী ও ব্যক্তিগত সচিব কিংবা তাদের স্বজনদের জন্য কোনো ধরনের সুপারিশ বা বরাদ্দ না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব নানা ঘটনা জামায়াত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ এসব আশা করে না।
জামায়াতের সাংগঠনিক অ্যাকশন
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ-সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। গাজী নজরুল নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন। তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই গত ১৭ জুন মরিয়মকে বিয়ে করেন। তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে রীতিমতো তুলকালাম শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিকস্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করে জামায়াত।
যা বললেন মিয়া গোলাম পরওয়ার
জামায়াতে ইসলামীর হাইকমান্ড অবশ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে না গিয়ে ভিন্নভাবে মূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা তৈরি হয়েছে নৈতিকতা, আদর্শ আর দলীয় শৃঙ্খলা দিয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু কিছু ঘটনা তাদের আহত করলেও শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াত যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা দলকে আরও মজবুত করেছে। এ প্রশ্নে জামায়াত আপসহীন। মানুষের সংগঠনে মানুষ হিসাবে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। তবে এর বিরুদ্ধে জামায়াতের শক্ত পদক্ষেপ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।
অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম বলেন, দলের কেউ কোনো অন্যায় বা অনৈতিক কাজে জড়িত হলে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই। কয়েকজন সংসদ-সদস্যের স্বজনপ্রীতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অ্যাকশন নিয়েছি। কেন্দ্র থেকে সার্কুলার দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। একজন নির্বাচিত সংসদ-সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সদস্যপদ বাতিলেরও ব্যবস্থা নিতে স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এত কুইক অ্যাকশন কোনো দলে আছে আমার জানা নেই। যারা এসব নিয়ে জামায়াতের মধ্যে অস্বস্তি আছে বলতে চান তারা জামায়াতকে বেশি ভালোবাসেন।
দিলারা চৌধুরীর সাফ কথা
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী প্রফেসর দিলারা চৌধুরী বলেন, দুর্নীতি এবং নীতি-নৈতিকতার দিক থেকে জামায়াত সম্পর্কে মানুষের এখনো উচ্চ ধারণা আছে। দলের একজন সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর বাইরেও কিছু ঘটনা জামায়াতকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে ঠিক। তবে সমালোচকরা যেভাবেই দেখুক জামায়াতের অ্যাকশন প্রশংসনীয়।
এক প্রশ্নের জবাবে মেজর আক্তারুজ্জামানের ঘটনাকে ইতিবাচক উল্লেখ করে দিলারা চৌধুরী বলেন, বিমানে আসা যাত্রীদের হয়রানি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তির বিষয়টি সবার জানা। আক্তারুজ্জামান তো এটারই প্রতিবাদ করেছেন। আবার তাকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা অন্যায়। বরং গ্রেফতার করা উচিত ছিল ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের। আক্তারুজ্জামানের এই প্রতিবাদের সঙ্গে প্রবাসীরাসহ গোটা জাতি একাত্ম। জামায়াত তার পক্ষ নিয়ে কোনো অন্যায় করেছে বলে তিনি মনে করেন না।
বদিউল আলম মজুমদারের মন্তব্য
সুশাসনের জন্য জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, জামায়াত যে ধরনের নীতি-নৈতিকতার কথা বলে তার সঙ্গে সংঘটিত কিছু ঘটনা মানায় না। এজন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সামান্য হলেও তাদের ইমেজ ক্ষুণ্ন হয়েছে। ইভেন তাদের তৃণমূলের কর্মীরাও অসন্তুষ্ট হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে তারা দ্রুত অ্যাকশন নিয়েছে। এটিও ঠিক। ফলে দলটি তাদের অবস্থান জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো বড় কর্মসূচিতে এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার কারণে অনেকেই বিরোধী দলের সমালোচনা করছে। তবে বিএনপি যে সংবিধান লঙ্ঘন করছে তার প্রতিকার কি? গণভোট হয়েছে। এটাই ফাইনাল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন হবে না, এটা তো একটা অবাস্তব ঘটনা এবং ক্ষমতার এক অলীক অপব্যবহার। আমাদের সঙ্গে তারা দিনের পর দিন বৈঠক করে গণভোটের বিষয়বস্তু তারাই ঠিক করলেন। জনগণ রায় দিল, সে রায় বাস্তবায়ন হবে না। এটার বিষয়ে তো সুরাহা হতেই হবে। এখন তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নিজেদের মতো সংবিধান সংশোধন করবে। এই দৃষ্টিতে লংমার্চ ঠিকই আছে।
মানুষ এসব আশা করে না
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম বলেন, অনৈতিক কাজ একজন মানুষ ভুলবশত করতেই পারে। যদিও জামায়াতের কাছ থেকে মানুষ সেটা মোটেই আশা করে না। তবে তাদের কুইক অ্যাকশন বিবেচনায় নিতে হবে। আক্তারুজ্জামানের জামায়াতে যোগদান নেতিবাচক কিছু নয়। এয়ারপোর্টে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ সঠিকভাবেই সে করেছে। তবে তার ভাষা ও এটিচিউড নিয়ে কথা থাকতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লংমার্চের মতো চূড়ান্ত কর্মসূচি জামায়াত আগে ভাগেই নিয়ে ফেলেছে; এটা অনেকেই ভালোভাবে নেয়নি। তবে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপিও ঠিক কাজ করেনি। এটা জুলাই শহীদদের প্রতি অবিচার। এই অর্থে জামায়াতের প্রতিবাদ, সঙ্গে জনভোগান্তি নিয়ে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দলটির কর্মসূচি নিয়ে জনমত এখন পর্যন্ত তাদের পক্ষেই আছে।
সূত্র: যুগান্তর।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
সংবাদপত্রের পাতা থেকে এর সর্বশেষ খবর