দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির দুটি চালু ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এতে পার্বতীপুরসহ আশপাশের আট জেলার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি সোমবার (৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এর একদিন পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৫ মিনিটে একই কারণে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ হয়ে যায়।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, দুটি ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু করেছেন চীনা প্রতিষ্ঠান হারবিন কোম্পানির প্রকৌশলীরা। তবে ইউনিট দুটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, তৃতীয় ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৬০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো। ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, প্রথম ইউনিট থেকে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো এবং এটি চালু রাখতে দৈনিক প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টন কয়লা ব্যবহৃত হয়।
এদিকে, কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সংস্কার ও ওভারহোলিংয়ের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ইউনিটটির উৎপাদন বন্ধ। প্রায় পাঁচ বছর ১১ মাস ধরে বন্ধ থাকা এই ইউনিটটি চলতি অক্টোবর মাসের যেকোনো সময় চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে দ্বিতীয় ইউনিট চালু হওয়ার আগেই প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বর্তমানে সম্পূর্ণ উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর