• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩ মিনিট পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৩০ রাত
স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা

গ্রেপ্তার অটোচালকের তথ্যে মিললো আইফোন, দুই ক্লু ধরে তদন্তে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় ৭ম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের হত্যাকাণ্ডের পর জব্দ হওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও উদ্ধার হওয়া তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটির সূত্র ধরে তদন্তে এগুচ্ছে পুলিশ। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজার কার সঙ্গে এবং কীভাবে গিয়েছিল এ বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার সুমনকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

অন্যদিকে নিহত তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার রাতে লালমাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এসব বিষয় জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

গ্রেপ্তার সুমন চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কয়েক বছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। মাসখানেক আগে স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে শ্বশুরের ঘর ভাঙচুর করে শ্বশুর ও স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে আর বাড়ি ফেরেননি। তাজমিন হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি শুক্রবার বিকেলে উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৩) মরদেহ গত বৃহস্পতিবার সকালে জেলার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের ফসলি জমি থেকে উদ্ধার করা হয়। তাজমিন যশোরের সদর উপজেলার চড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। তাদের বাসা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায়।

তাজমিনের বাবার বরাতে পুলিশ জানায়, তাজমিন গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তবে পুলিশ বলছে, তার মোবাইল কল লিস্ট অনুযায়ী সেদিন তাজমিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া যান, পর দিন কুমিল্লা ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজার যান। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখান থেকে রওনা হয়ে রাতে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন। 

স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার মূল আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, মেলেনি মোবাইল ফোনস্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যার মূল আসামি চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার, মেলেনি মোবাইল ফোন পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা গাড়ি থেকে তাজমিন একা নামতে দেখা যায়। এসময় হোটেলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভিতে তাকে মোবাইল হাতে ও কাঁধে ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে সড়কের দিকে চলে আসায় পরে আর তার গন্তব্য সিসিটিভিতে রেকর্ড নেই।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে জগতপুর গ্রামের ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় মরদেহের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়। এরপর থেকে ঘাতকদের খুঁজতে অভিযানে মাঠে নামে পুলিশ। জব্দ করা ওই সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশনের সূত্র ধরে এর মালিক জেলার লালমাই উপজেলার আবুল হাসেম বলে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আবুল হাসেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় তার অটোরিকশাটি ভাড়ায় চালাতেন লালমাই উপজেলার বাগমারা ইউনিয়নের জয়নগর এলাকায় ঘরজামাই থাকা মো. সুমন।

এদিকে জগতপুর গ্রামের আবু তাহের বলেন, এলাকার লোকজনের কাছে খবর পেয়ে মাঠের পাশে গিয়ে দেখি ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে আছে। এর আশপাশের ধানক্ষেতগুলোতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্কুল ছাত্রী ঘাতকদের কবল থেকে বাঁচতে চেষ্টা করছিলেন। জমিতে চিহ্ন অনুসরণ করে একটু সামনে একটি ধানক্ষেতে গিয়ে দেখি এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের মাথা কাদায় গাড়ানো ছিল। পুরো শরীর বস্ত্রহীন। গলায় গামছা প্যাঁচানো। পরে যখন দেখলাম দলে দলে মানুষ আসছে দেখার জন্য, তখন একটি গামছা দিয়ে নগ্ন শরীর ঢেকে দেওয়া হয়। এ সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে ঘটনার খবর জানাই। পরবর্তী সময়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, তাজমিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার নতুন কিংবা পুরাতন একাধিক বন্ধুও জড়িত থাকতে পারে। গত ৪ অক্টোবর তার বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ও পরের মোবাইল কল লিস্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে কিলারদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ।

তাছাড়া তাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তাও মেডিকেল রিপোর্টের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কুমিল্লায় ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার তার মরদেহ যশোরের গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মোটিভের বিষয়ে আমরা অনেকটা নিশ্চিত। আটক অটোচালক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ, তাজমিনের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পর্যালোচনাসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। তাদের আটক করতে অভিযান চলছে।

তবে অটোচালক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কিনা তা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ‘শনিবার সংবাদ সম্মেলনে হত্যায় জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে’ বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]