অন্যায্য লোভের এই যুগে সততা ও মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খাগড়াছড়ির দীঘিনালার আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া। কুড়িয়ে পাওয়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল দীর্ঘ আড়াই মাস পরম যত্নে আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত তিনি তা প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন।
শুক্রবার সকাল ৯টায় দীঘিনালা উপজেলার মধ্য বোয়ালখালী বাজারে এক আবেগঘন পরিবেশে ৭৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা জানোকি চাকমার হাতে তাঁর হারানো অলংকারগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কাঙ্ক্ষিত জিনিস ফিরে পেয়ে জানোকি চাকমাও তাঁর আনন্দের অংশ হিসেবে অসহায় মানুষের সহায়তায় ১ হাজার ৫০০ টাকা দান করে এক অনন্য মানবিক ভালোবাসার নিদর্শন গড়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দুই মাস ১৫ দিন আগে। দীঘিনালার মধ্য বোয়ালখালী বাজারে ইয়াকুব আলীর চায়ের দোকানের সামনে একটি পরিত্যক্ত ছোট ব্যাগ দেখতে পান আনসার সদস্য আবু হানিফ মিয়া। ব্যাগটি খুলে ভেতরে দুই জোড়া মূল্যবান স্বর্ণের কানের দুল পেয়ে তিনি তা নিজের কাছে গচ্ছিত রাখেন এবং পণ করেন যে, যেকোনো মূল্যে আসল মালিককে এটি ফেরত দেবেন।
মালিককে খুঁজে বের করা সহজ ছিল না। তিনি স্থানীয় বাজারের বিভিন্ন চায়ের দোকান ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানিয়ে রাখেন এবং জানান যে, সঠিক বিবরণ ও প্রমাণ দিতে পারলে তা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। দীর্ঘ দুই মাস ১৫ দিনের নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা ও অনুসন্ধানের পর অবশেষে জানা যায়, বোয়ালখালী এলাকার বাসিন্দা জানোকি চাকমা চা খেতে এসে অসাবধানতাবশত দুলগুলো হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরবর্তীতে সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের সত্যতা নিশ্চিত করে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো তাঁর হাতে হস্তান্তর করা হয়।
স্বর্ণালংকার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত জানোকি চাকমা বলেন, 'আমি আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। এই সময়ে এমন একজন পরোপকারী ও সৎ মানুষ পাওয়া ভাগ্যের বিষয়। আবু হানিফ মিয়া চাইলে দুলগুলো নিজের কাছে রেখে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর এই ঋণ আমি কখনো ভুলব না।'
পেশাগত দায়িত্বের বাইরে এসে একজন আনসার সদস্যের এমন নিঃস্বার্থ উদ্যোগ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার সততা দীঘিনালার সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আবু হানিফ মিয়ার এই মহানুভবতা সমাজে পারস্পরিক বিশ্বাস, নীতি ও নৈতিকতার চর্চাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর