শহরের ব্যস্ত রাস্তায় বের হলেই ধুলাবালি, যানবাহনের ধোঁয়া ও নানা ধরনের বায়ুদূষণের মুখোমুখি হতে হয়। এসব দূষণকারী উপাদান শুধু শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে না, প্রভাব ফেলতে পারে ত্বকের স্বাস্থ্যের ওপরও। দীর্ঘ সময় দূষিত পরিবেশে থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দেখা দিতে পারে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া ও সংবেদনশীলতার মতো সমস্যা। কারও কারও ক্ষেত্রে ব্রণসহ আগে থেকে থাকা ত্বকের সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।
বায়ুদূষণ ত্বকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধী স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিন বাইরে যাতায়াত করতে হলে ত্বকের যত্নে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দূষণের প্রভাব কমাতে মেনে চলতে পারেন ছয়টি নিয়ম।
১. বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগান
ত্বককে সুস্থ রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি, কালচে দাগ ও অকাল বার্ধক্যের অন্যতম কারণ। তাই বাইরে যাওয়ার আগে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। তবে সানস্ক্রিন বায়ুদূষণের সব ধরনের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে পারে না।
২. বাইরে থেকে ফিরে মুখ ধুয়ে নিন
বাইরে চলাফেরার সময় ধুলাবালি ও দূষণকারী কণা ত্বকের ওপর জমতে পারে। তাই ঘরে ফেরার পর মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। এতে ত্বকের ওপর জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল দূর হবে। তবে মুখ পরিষ্কার করতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষি করা বা বারবার মুখ ধোয়া এড়িয়ে চলুন। এতে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্কতা ও জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।
৩. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
দূষণ ও পরিবেশগত নানা কারণে ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। ফলে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এ সমস্যা কমাতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং এর স্বাভাবিক প্রতিরোধী স্তরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
৪. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্য বেছে নিন
বায়ুদূষণের কারণে ত্বকে ফ্রি র্যাডিক্যালের প্রভাব ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়তে পারে। এ ধরনের ক্ষতি মোকাবিলায় ত্বকের যত্নে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও নিয়াসিনামাইডযুক্ত পণ্য ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে। তবে সবার ত্বকে সব উপাদান একইভাবে কাজ করে না। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৫. বারবার মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলুন
অপরিষ্কার হাতে মুখ স্পর্শ করলে হাতের ময়লা ও জীবাণু ত্বকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বিশেষ করে ব্রণপ্রবণ ত্বকে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই অপ্রয়োজনে মুখে হাত দেওয়া, ব্রণ খোঁটা বা বারবার ত্বক স্পর্শ করার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। বাইরে থেকে ফিরে এবং খাবার খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। এ ছোট অভ্যাসগুলো ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।
৬. ত্বকের যত্নের পাশাপাশি সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্ব দিন
ত্বক ভালো রাখতে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই হয় না, প্রয়োজন সামগ্রিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার ও নিয়মিত পানি পান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। তবে কোনো খাবার বা পানীয় বায়ুদূষণের ক্ষতি থেকে ত্বককে সরাসরি রক্ষা করতে পারে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
পাশাপাশি বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি থাকলে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা এড়িয়ে চলুন। স্থানীয় বায়ুমান সূচক সম্পর্কে খোঁজ রাখুন এবং প্রয়োজনে বাইরে থাকার সময় কমিয়ে আনুন। ত্বকে দীর্ঘদিন জ্বালাপোড়া, র্যাশ, অতিরিক্ত শুষ্কতা বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মনে রাখবেন, দূষণ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সব সময় সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সানস্ক্রিন ও ময়েশ্চারাইজারের সঠিক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করা যায়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর