স্ট্রোক সাধারণত হঠাৎ ঘটে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এর আগে শরীরে বিভিন্ন সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগেও দেখা দিতে পারে। তাই হঠাৎ কোনো স্নায়বিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
হঠাৎ মাথা ঘোরা: অস্বাভাবিক মাথা ঘোরা বা শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে।
হাঁটতে সমস্যা: হাঁটার সময় হঠাৎ হোঁচট খাওয়া বা শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে অসুবিধা হতে পারে।
দৃষ্টির পরিবর্তন: চোখে ঝাপসা দেখা, হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা দৃষ্টিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
অস্বাভাবিক মাথাব্যথা: আগে কখনো না হওয়া তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাথার এক পাশে ব্যথা, সতর্কতার কারণ হতে পারে।
মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাব: মাথাব্যথার পাশাপাশি বমিভাব বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দিলে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
হাত-পায়ে দুর্বলতা: শরীরের কোনো অংশ, বিশেষ করে হাত বা পায়ে হঠাৎ অসাড়তা কিংবা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
কথা বলায় সমস্যা: হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টভাবে কথা বলাও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।
কানে অস্বাভাবিক শব্দ: কিছু ক্ষেত্রে কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
মিনি স্ট্রোকের লক্ষণ
স্ট্রোকের মতো উপসর্গ কয়েক মিনিট বা অল্প সময়ের জন্য দেখা দিয়ে পরে সেরে গেলে সেটি ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বা মিনি স্ট্রোক হতে পারে।
মুখ, হাত বা পায়ের এক পাশ হঠাৎ অবশ বা দুর্বল হয়ে যাওয়া এর অন্যতম লক্ষণ।
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অস্পষ্টভাবে কথা বলাও টিআইএর লক্ষণ হতে পারে।
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখে অন্ধকার দেখা দিতে পারে।
উপসর্গ কিছুক্ষণ পর সেরে গেলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ টিআইএ ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের ঝুঁকির সতর্কসংকেত হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে করণীয়
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা।
নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
খাবারে অতিরিক্ত লবণ ও চর্বি কমানো।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
কখন জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে
হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে স্ট্রোক হবে, এমন নয়। অন্যান্য অনেক কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই সন্দেহজনক বা আকস্মিক স্নায়বিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর