সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ইরানেও নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে ওয়াশিংটনে।
রোববার (১১ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার কারণে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল এবং অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকেরা জানতে চান, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নেবে কি না।
জবাবে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সর্বশেষ হামলার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের পর হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ইরানেও নতুন হামলার ইঙ্গিত
আলজাজিরার লাইভ আপডেটে বলা হয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ইরানে পুনরায় হামলা চালানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন ট্রাম্প।
তবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিংবা হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতের মধ্যে ওয়াশিংটনের এমন অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১২
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩০৯ জন।
নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানির তথ্যও উঠে এসেছে।
হামলার পর বিমানবন্দর এলাকায় জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ হামলার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
হুথিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে হামলার জবাব দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ড্রোন প্রতিহত করার খবরও পাওয়া গেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ড্রোনটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।
সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও হুথিদের সংঘর্ষ নতুন করে তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে হুথিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নিলে সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানে নতুন হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ওয়াশিংটন এখনো পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্র: আলজাজিরা।
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর