ডলারের মান কিছুটা কমে আসা এবং জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহারসংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা পেতে চলতি সপ্তাহে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ২ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৩০ ডলারে উঠেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পাশাপাশি ডলারের মান কমে আসায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তেলের দাম কমে আসায় মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বাজারের তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগের সম্ভাব্য মুনাফার বিবেচনায় এটি স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক।
রোববার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানিসংক্রান্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এখনো চুক্তির বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে সুদ বা লভ্যাংশ না দেওয়া এই মূল্যবান ধাতুতে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখন বুধবার প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) বা ভোক্তা মূল্যসূচকের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। এর পর বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) বা উৎপাদক মূল্যসূচক এবং খুচরা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য।
এসব তথ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা বুঝতে পারবেন বিনিয়োগকারীরা।
সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৮৬ শতাংশ ধরে হিসাব করছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাবে অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশটির ভোক্তা আস্থার সূচক আরও কমেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে
বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সোমবার স্পট সিলভারের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭০৪ দশমিক ৭০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৬১ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর