কুমিল্লার শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পরও তার বাবা-মায়ের মধ্যে যে স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকার কথা, তা তিনি লক্ষ্য করেননি। এ ঘটনাকে সমাজে দায়িত্ববোধ ও মানসিকতার সংকটের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। শিশুদের সুরক্ষায় পরিবারের দায়িত্বশীলতা, সামাজিক সচেতনতা এবং কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কুমিল্লার আলোচিত তাজমিন হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ, অথচ তার বাবা-মায়ের মধ্যে স্বাভাবিক যে উদ্বেগ থাকার কথা, তা দেখা যায়নি। এমন ঘটনা শুধু একটি পরিবারের বিষয় নয়, বরং সমাজের গভীরে থাকা উদাসীনতা ও দায়িত্ববোধের সংকটকেও সামনে নিয়ে আসে।
কন্যাশিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সন্তানদের প্রতি পরিবারের সজাগ দৃষ্টি ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের পাশাপাশি সমাজকেও শিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।
স্কুলগামী মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, অনেক মা তাঁদের মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্কুলের বাইরে ফুটপাথে কাগজ বিছিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। এটি সমাজে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তাহীনতার একটি উদ্বেগজনক চিত্র।
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির মতো অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার ও আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সরকার শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
কন্যাশিশু ও কিশোরীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি মনে করেন, কন্যাশিশুদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর