ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানান, কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশকে নোটিশ দিয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চাওয়া হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ এক আদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে। স্থানগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান। এসব স্থানে কর্মসূচি আয়োজনের নিয়মকানুন নির্ধারণে পৃথক নির্দেশিকা জারি করা হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, রামলীলা ময়দানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে দিল্লি পৌর করপোরেশন। অন্যদিকে শাহদারার সিবিডি ময়দান ও বুরারি ময়দান দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভের জন্য এসব স্থান বরাদ্দের নীতিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দিল্লির রামলীলা ময়দান এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক সমাবেশ ও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে বুরারি ও সিবিডি ময়দানে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের নজির খুব একটা নেই।
অন্যদিকে, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তর বহু বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী ও নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রতিবাদস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সম্প্রতি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কথিত ভোট কারচুপির অভিযোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সেখানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঐতিহাসিক স্থানটিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের জবাবের ভিত্তিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আয়োজনের বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর