জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী মানিক পশারীকে নিয়ে নতুন অভিযোগ তুলেছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। মানিক পশারী অর্থ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। নিজের দাবির পক্ষে মানিক পশারীর ছোট ভাই চান মিয়া পশারীর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছেন মাসুদ সাঈদী।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন মাসুদ সাঈদী। এর আগে মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে চান মিয়া পশারীর ভিডিও সাক্ষাৎকারটি শেয়ার করে মাসুদ সাঈদী লেখেন, ‘আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে মানিক পশারীর ভূমিকা এবং টাকা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের ভূমিকার বিষয়ে তার ছোট ভাই চান পশারীর বক্তব্য শুনুন। সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না।’
প্রকাশিত ভিডিওতে চান মিয়া পশারী দাবি করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তাঁকেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে বাদ দিয়ে তাঁর বড় ভাই মানিক পশারীকে সাক্ষী করা হয়।
ভিডিওতে চান মিয়া বলেন, একসময় তাঁদের ডেকে নিয়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়েছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
চান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে সাক্ষ্য দিতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারব না। এই সাঈদীর ওপর আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারব না।’
এরপর তাঁর বড় ভাই মানিক পশারীকে অর্থের বিনিময়ে সাক্ষী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চান মিয়া।
তিনি বলেন, ‘আমার মানিক পশারী ভাইকে পয়সা খাওয়াইছে। তুমি চলো, ওনার সাক্ষী লাগবে না। এই আমারে সরাই দিয়া মানিক পশারীর সাক্ষী নিছে।’
ভিডিওতে চান মিয়া আরও দাবি করেন, তাঁদের বাড়ির আশপাশের কয়েকজনও সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তবে তিনি নিজে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে চাননি বলে সেখান থেকে চলে আসেন।
সাক্ষ্য দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকেও অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে চান মিয়া বলেন, ‘হ্যাঁ, আমারে টাকা সাধছে না! আমি তো টাকা খাওয়ার দিকে চাই নাই। আমি টাকা খাইতাম না।’
অর্থ গ্রহণ না করায় নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে যাঁরা অর্থ নিয়েছেন, তাঁদের বাড়িঘর হয়েছে বলে অভিযোগ করেন চান মিয়া।
সাক্ষাৎকারে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আলোচিত ইব্রাহিম কুট্টি হত্যাকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন চান মিয়া পশারী।
ইব্রাহিম কুট্টি কীভাবে নিহত হয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, তাঁকে নলবুনিয়া থেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তবে তাঁর বক্তব্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হয়নি।
এ ঘটনায় সাঈদীর সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চান মিয়া বলেন, ‘এখন সাঈদী সাহেবের দোষ কমু কী কইরা। হে তো কোনো দোষ করে নাই।’
তবে চান মিয়া পশারীর এসব বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ভিডিওতে উত্থাপিত অর্থের বিনিময়ে সাক্ষ্য দেওয়া, সরকারি সুবিধা গ্রহণ এবং সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও যাচাই করা যায়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মানিক পশারী ও এম এ আউয়ালের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কোনো ব্যক্তির সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত অভিযোগকে আদালতে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর