দুধ প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তবে দুধ দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকায় এর নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আল্ট্রা হাই টেম্পারেচার (ইউএইচটি) প্রযুক্তি দুধের সংরক্ষণকাল বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। যদিও এই প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত দুধের পুষ্টিগুণ, প্রিজারভেটিভের ব্যবহার ও সংরক্ষণপদ্ধতি নিয়ে অনেকের মধ্যে নানা ধারণা প্রচলিত রয়েছে। ইউএইচটি মিল্ক সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।
ইউএইচটি মিল্ক পান করার আগে ফুটিয়ে নিতে হয়?
ইউএইচটি মিল্কের প্যাকেট অক্ষত থাকলে এবং পণ্যটি যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষিত হলে, প্যাকেট খোলার আগে আবার ফুটিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এ প্রক্রিয়ায় দুধকে অতি উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প সময়ের জন্য উত্তপ্ত করা হয়। এরপর দ্রুত ঠান্ডা করে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে অ্যাসেপটিক প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে সিল করা হয়। তাপ প্রয়োগ ও বিশেষ প্যাকেজিংয়ের সমন্বয় প্যাকেট খোলার আগে দুধকে দীর্ঘ সময় নিরাপদ রাখার সুযোগ তৈরি করে।
প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে দুধের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়?
ইউএইচটি প্রক্রিয়াজাতকরণের পরও দুধে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান বজায় থাকে। তবে তাপ প্রয়োগের কারণে কিছু তাপসংবেদনশীল ভিটামিনের পরিমাণে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই ইউএইচটি মিল্কের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ধারণা পেতে নির্দিষ্ট পণ্যের প্যাকেটের গায়ে থাকা পুষ্টি তথ্য যাচাই করা ভালো।
ইউএইচটি মিল্ক দীর্ঘদিন ভালো রাখতে প্রিজারভেটিভ যোগ করা হয়?
ইউএইচটি মিল্কের দীর্ঘ সংরক্ষণকাল মূলত উচ্চ তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশে প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। উপযুক্ত অ্যাসেপটিক প্যাকেজিং প্যাকেট খোলার আগে বাইরের অণুজীবের প্রবেশ প্রতিরোধে সহায়তা করে। টেট্রাপ্যাকের মতো কিছু প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত একাধিক স্তর দুধকে আলো, অক্সিজেন ও বাইরের পরিবেশের প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতেও সহায়তা করে। ফলে এ ধরনের ইউএইচটি মিল্কে দীর্ঘ সংরক্ষণকাল নিশ্চিত করতে প্রিজারভেটিভ যোগ করার প্রয়োজন হয় না। তবে নির্দিষ্ট পণ্যের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্যাকেটের লেবেল দেখে নেওয়া উচিত।
ইউএইচটি মিল্ক সব সময় ফ্রিজে রাখতে হয় না
ইউএইচটি মিল্কের প্যাকেট না খোলা থাকলে এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হলে সাধারণত ফ্রিজ ছাড়াই নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত রাখা যায়। তবে প্যাকেট খোলার পর দুধ বাইরের পরিবেশের সংস্পর্শে আসে এবং পুনরায় দূষিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে প্যাকেট খোলার পর দুধ ফ্রিজে রাখতে হবে এবং লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পান করতে হবে। খোলা দুধ দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া উচিত নয়।
ইউএইচটি প্রযুক্তির সুবিধা ও নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম
ইউএইচটি প্রযুক্তি দুধের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবহন, বিতরণ ও দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে দুধ তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রিজে রাখা সম্ভব হয় না, সেখানে যথাযথভাবে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত ইউএইচটি মিল্ক কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
তবে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কেনার সময় প্যাকেটের অখণ্ডতা, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। প্যাকেট খোলার পর যথাযথভাবে ফ্রিজে সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুধ পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক তথ্য জানা ও সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে ইউএইচটি মিল্কের সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে দুধ নির্বাচন ও ব্যবহারই পারে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর