• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৫৩ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর

ইনফিনিক্স ফোন বিষ্ফোরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে গ্রাহককে হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্র্যান্সশন হোল্ডিংসের মালিকানাধীন- টেকনো, ইনফিনিক্স ও আইটেল ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ফোন নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এই ব্র্যান্ডগুলোর স্মার্টফোনের ব্যাটারি বিস্ফোরণ, ব্যবহারকারী দগ্ধ হওয়া এবং সফটওয়্যার সমস্যা অনেকাংশে বেড়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এমন স্মার্টফোকে ‘চলন্ত টাইম বোমা’র সাথে তুলনা করেছেন!

ব্যবহারকারিদের অভিযোগ, তিনটি ব্র্যান্ডেরই বিভিন্ন মডেলের ফোনগুলো ছয় মাসের মধ্যে ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হওয়া, দ্রুত ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া, সফটওয়্যার ও চার্জিং সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা কোন কারন ছাড়াই ফোন বিস্ফোরণ ঘটছে।

এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ এলাকায়। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ‘ইনফিনিক্স হট ৬০আই’ মডেলের একটি অফিশিয়াল ফোনে কথা বলার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যায়। এবং ফোনটি বিষ্ফোরিত হয়। এ ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি ও মারাত্মত ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি জানান ফোনটির ব্যবহারকারী নাহিদ হাসান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী গ্রাহককে সহায়তা না করে উল্টো আইনি ব্যবস্থার হুমকি ও বিস্ফোরিত ফোন, বক্স ও কাগজপত্রসহ জমা দেয়ার জন্য চাপ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক নাহিদ হাসান জানান, তিনি তার ব্যবহৃত ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের ‘ইনফিনিক্স হট ৬০আই’ মডেলের অফিশিয়াল হ্যান্ডসেটটিতে স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। কথা বলা অবস্থায় হঠাৎ ফোন অতিরিক্ত গরম হতে শুরু করে। অস্বাভাবিক উত্তাপ টের পেয়ে বিপদের আশঙ্কায় নাহিদ দ্রুত ফোনটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। ফোনটি মাটিতে ফেলার মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের মাথায় সেটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং সাথে সাথে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী নাহিদ বলেন, ‘ফোনটি হাত থেকে ফেলে দিতে আর মাত্র পাঁচ সেকেন্ড দেরি হলে সেটি সরাসরি আমার কান ও মুখের কাছেই বিস্ফোরিত হতো। এতে আমার কান, মুখ ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যেতে পারত, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটতে পারত। সময়মতো সরাতে পেরেছিলাম বলেই বেঁচে গেছি।'

স্বাভাবিক ব্যাবহারে ফোন বিষ্ফোরিত হওয়া কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয় বরং বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় এমন ঘটনা ঘটায় ফোনটির ব্যাটারি কিংবা উৎপাদনে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

বাজারে এখনো এই মডেলের ফোন বিক্রি হচ্ছে। আবার গ্রাহকের কাছেই ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের ‘ইনফিনিক্স হট ৬০আই’ মডেলের মোবাইলের বহু ইউনিট ব্যাবহাররত অবস্থায় আছে। যদি সত্যিই উৎপাদনগত কোন ত্রুটি থেকে থাকে তবে গ্রাহকের হাতে থাকা এই মডেলের প্রতিটা মোবাইল ফোনকে এক একটা টাইম বোমা হিসেবেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, দুর্ঘটনার আতঙ্ক কাটার আগেই ভুক্তভোগীকে নতুন করে মানসিক চাপে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

নাহিদ হাসান বলেন, মোবাইল বিষ্ফোরনের পর ঘটনাটি সর্বপ্রথম দুরবীন নিউজে প্রকাশিত হলে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরবর্তিতে অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে বিষ্ফোরনের ঘটনাটি প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে পুড়ে যাওয়া ফোন, বক্সসহ তাদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তিনি যদি এই আলামত না প্রদান কনে তবে তার বিরুদ্ধে ‘আইনি ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে একজন সাধারন গার্মেন্টসকর্মী নাহিদ আইনি জটিলতায় ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন বলেন জানান।

ভুক্তভোগী নাহিদের ভাষ্য মতে, ইনফিনিক্সের ত্রুটিপুর্ন মোবাইল বিষ্ফোরনের এই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তাকে এভাবে হয়রানি ও আইনি জটিলতায় ফেলার হুমকি দিচ্ছে ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাদের পক্ষ হতে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ইনফিনিক্সে ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নায়। গত বছরের ১২ জানুয়ারি ভোলায় প্রাইভেট পড়া শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পকেটে রাখা ‘ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস’ মডেলের একটি ফোন বিস্ফোরিত হয়। সে সময় ওই তরুণের কাপড়ে আগুন ধরে যায় এবং তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ বার্ন ইউনিটে থেকে উন্নত চিকিৎসার নেন। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছিল।

পরপর ইনফিনিক্সে দুটি ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে আসার পর ইনফিনিক্স ফোনের ব্যাটারির মান ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দেশের সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও সচেতন গ্রাহকদের দাবি, শুধু নির্দিষ্ট কিছু মডেলেই নাকি ইনফিনিক্সের সকল ফোনগুলোতেই এসব উৎপাদনগত মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে কি না, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা - বিটিআরসি ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com