বাংলাদেশে সম্প্রতি সময়ে পরপর বেশ কয়েকটি স্মার্টফোন বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কে আছে ব্যবহারকারীরা। বিদেশি কোম্পানির স্মার্টফোন- ইনফিনিক্স, শাওমি, অনার, স্যামসাং বিস্ফোরণের সাথে সাথে দেশীও কোম্পানি সিম্ফনি ফোন বিস্ফোরণ হয়েছে। এই স্মার্টফোন বিস্ফোরণের কারনে অনেকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকেই আহত হয়ে মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আশার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এবার তেমনই এক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। রবিবার (২৫ অক্টোবর) 'ইনফিনিক্স হট ৬০আই' মডেলের একটি ফোনে কথা বলার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন ফোনটির ব্যবহারকারী নাহিদ হাসান।
জানা গেছে রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি 'ইনফিনিক্স হট ৬০আই' মডেলের ফোনে কথা বলছিলেন। হঠাৎ ফোনটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠলে বিপদের আশঙ্কায় দ্রুত সেটি হাত থেকে মাটিতে ফেলে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিস্ফোরিতো হয় এবং ফোনটিতে আগুন ধরে যায়।
এতে মোবাইল ফোনটি পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সময়মতো ফোনটি হাত থেকে ফেলে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ হাসান।
আগুন ধরে যাওয়া 'ইনফিনিক্স হট ৬০আই' ফোনটি প্রায় এক বছর আগে কিনেছিলেন জানিয়ে নাহিদ বলেন, 'ফোনটি হাত থেকে ফেলে দিতে আরও পাঁচ সেকেন্ড দেরি হলে সেটি তাঁর কানের কাছেই বিস্ফোরিত হত। এতে তাঁর হাত, কান ও মাথার এক পাশ গুরুতরভাবে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।'
স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করার সময় এমন ঘটনা ঘটায় ফোনটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে ইনফিনিক্সের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার ইফতেখার উদ্দিন সানীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোনকল রিসিভ না করে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে এ ঘটনায় ইনফিনিক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বছরের ১২ জানুয়ারি প্রাইভেট পড়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পকেটে 'ইনফিনিক্স হট ৫০ প্রো প্লাস' মডেলের একটি ফোনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর শরীরে আগুন ধরে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এরপরে ইনফিনিক্সের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
এ ধরনের ঘটনার পর ইনফিনিক্স ফোনের ব্যাটারির মান ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, ফোনটির ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে তদন্ত করে দেখা হোক। তবে নারায়ণগঞ্জে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর সর্বশেষ খবর