দুর্গম পাহাড়ি জনপদের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম রাম রতন কারবারি পাড়ার সাতটি দরিদ্র পাহাড়ি পরিবারের মাঝে গবাদিপশু (ছাগল) বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কের নির্দেশনায় ও আলমগীর টিলা আর্মি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানে ৭টি পরিবারের প্রত্যেককে দুটি করে মোট ১৪টি সুস্থ ছাগল হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে দীঘিনালা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি চিকিৎসক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগী পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ২৫ জন উপস্থিত ছিলেন।
পাহাড়ি অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি করা বরাবরই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে এসব মানুষকে জীবিকা নির্বাহে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এই গবাদিপশু বিতরণ উদ্যোগ পরিবারগুলোর বিকল্প আয়ের উৎস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের মতে, ছাগল পালন তুলনামূলকভাবে কম পুঁজি ও সীমিত জায়গায় শুরু করা সম্ভব। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা, নিয়মিত টিকাদান ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড শক্ত করতে সাহায্য করবে। ছাগলের বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে স্থায়ী সম্পদ গড়ে তোলার পাশাপাশি দৈনন্দিন খরচ, শিশুদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটানো সহজ হবে।
সেনাবাহিনীর এমন সময়োপযোগী ও মানবিক সহায়তায় আনন্দিত উপকারভোগী পরিবারগুলো। ছাগল হাতে পাওয়ার পর তারা দীঘিনালা জোনের জোন অধিনায়কসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দীঘিনালা জোনের এই উদ্যোগ কেবল তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর