ফেনীতে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ঘরের দরজা ভাঙচুর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন সাপ্তাহিক মুহুরী পত্রিকার প্রকাশক কালাম পাটোয়ারীর বড় ছেলে মতিন পাটোয়ারী। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।
মতিন পাটোয়ারীর অভিযোগ, গত ১৫ অক্টোবর তাঁর ছোট ভাই রাজু দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে বাড়িতে আসেন। এ সময় তাঁর ঘরের দরজা কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। একই দিন তাঁর স্ত্রীর গায়েও হাত তোলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রথমে ফেনী মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
এরপর গত ১৭ অক্টোবর নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফেনী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন মতিন পাটোয়ারী।
তাঁর অভিযোগ, ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৯ অক্টোবর তাঁর বড় মেয়ে মেহেরা সুলতানাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে জখম করা হয়। এ ঘটনায় একই দিন তিনি বাদী হয়ে থানায় আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ করার পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার কিংবা ঘটনার কার্যকর কোনো সমাধান না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
মতিন পাটোয়ারী বলেন, “আমার বাবা কালাম পাটোয়ারী একজন স্বনামধন্য সম্পাদক ছিলেন। থানায় বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা হতাশ। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ১৫ অক্টোবর পুলিশের সামনে আমার স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলেও আমি অভিযোগ করছি।”
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ফেনী ডায়াবেটিস হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মেহেদী হাসান রাজু বলেন, “ঘটনা সত্য নয়। আমার ভাই সম্পদ বিক্রি করে খায়। এখন নতুন কোনো ফন্দি আঁটছে। এ জন্য এত নাটক করছে।”
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “এটি পারিবারিক সমস্যা। তাঁদের মাকে সঙ্গে নিয়ে একবার বসে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
তবে একাধিক অভিযোগের পরও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আসায় ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মতিন পাটোয়ারী।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর