সুন্দরবনের দুবলার চরে শুঁটকি মৌসুম শুরুর আগেই বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রায় ১ হাজার ২০০ মাছ ধরার ট্রলার পৌঁছে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল থেকে এসব ট্রলার দুবলার চরের উদ্দেশে যাত্রা করে। অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ না করতে বন বিভাগের মাইকিং ও সতর্কবার্তা সত্ত্বেও একযোগে বিপুলসংখ্যক ট্রলারের যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, নজরদারি ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দীপন চন্দ্র দাস বলেন, গত রাত থেকে চিলা বাজার ও জয়মনি ঘোল এলাকায় কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছিল। মাইকিং করে অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ না করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ করে প্রায় ১ হাজার ২০০ ট্রলার একযোগে দুবলার চরের উদ্দেশে যাত্রা করে। জেলেরা বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা মানেননি।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) থেকে সুন্দরবনের দুবলার চরে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ মাসব্যাপী শুঁটকি মৌসুম শুরু হওয়ার কথা। আগামী বছরের মার্চের শেষ পর্যন্ত এ মৌসুম চলবে। নিয়ম অনুযায়ী, বন বিভাগের পাস-পারমিট নিয়ে নির্ধারিত সময় অনুসারে জেলেদের সাগরে যাওয়ার কথা। তবে মৌসুম শুরুর আগেই এত বিপুলসংখ্যক ট্রলারের যাত্রা সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
প্রতিবছর শুঁটকি মৌসুমে দুবলার চরের আলোরকোল, অফিসকেল্লা, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরে হাজারো জেলে ও মহাজনের সমাগম ঘটে। এবারও প্রায় ১০ হাজার জেলে ও মহাজনের সমাগমের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁদের থাকার জন্য অস্থায়ী ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল, দোকান ও মাছ কেনাবেচার ডিপো নির্মাণের অনুমতি দিয়েছে বন বিভাগ। তবে এসব স্থাপনা নির্মাণে সুন্দরবনের গাছপালা কাটা নিষিদ্ধ।
এদিকে দস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্ক, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস এবং আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা নিয়েই নতুন মৌসুম শুরু করতে যাচ্ছেন জেলেরা। গত মৌসুমে জেলেদের অপহরণের ঘটনায় তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ায় ট্রলারডুবি এবং বৃষ্টিতে শুকাতে দেওয়া মাছ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, গত শুঁটকি মৌসুমে বন বিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল সাড়ে সাত কোটি টাকা। এবার আট কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে দস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের কারণে জেলে-মহাজনদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি রাজস্ব আদায়েও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুঁটকি মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় ১ হাজার ২০০ ট্রলারের দুবলার চরে যাত্রার ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসব ট্রলার কীভাবে যাত্রা করল, অনুমতিপত্র যাচাইয়ের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল এবং সুন্দরবনের সুরক্ষায় বন বিভাগ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর