আজ ৩১ অক্টোবর, বিশ্ব সঞ্চয় দিবস। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়।
জীবনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলা, জরুরি প্রয়োজন মেটানো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সঞ্চয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয় অনুযায়ী ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত অল্প অল্প করে অর্থ জমিয়ে রাখার অভ্যাস একজন মানুষকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে।
বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের মানসিকতা তৈরি এবং ব্যাংকসহ বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ জমা রাখার প্রতি উৎসাহিত করাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও সঞ্চয়ের গুরুত্ব অনেক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়মিত জমা রাখার অভ্যাস ভবিষ্যতের আর্থিক চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
অর্থনৈতিক সচেতনতা বাড়াতে ব্যক্তিগত বাজেট তৈরি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, নিরাপদ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সঞ্চয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগের বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সঞ্চয়ের নামে প্রতারণামূলক ও অননুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ফাঁদ থেকে সতর্ক থাকারও প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯২৪ সালে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক সঞ্চয় ব্যাংক কংগ্রেসে বিশ্ব সঞ্চয় দিবস পালনের ধারণা আসে। পরবর্তী সময়ে ৩১ অক্টোবর দিনটি বিশ্ব সঞ্চয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
বিশ্ব সঞ্চয় দিবসের মূল বার্তা—সঞ্চয় শুধু অর্থ জমিয়ে রাখা নয়, বরং নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর