১৫৭ বছরের পুরোনো, দেশের শীর্ষস্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজের ধ্বংসকৃত ঐতিহ্যবাহী গেইট Acquire Knowledge তথা AK গেইটটি পুন:নির্মাণের ব্যাপারে ‘চট্টগ্রাম কলেজ ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ’ এর একটি প্রতিনিধি দল শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারিখ সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
কলেজ অধ্যক্ষ্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন পরিষদের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র (১৯৬৯-৭২/ব্যাচ), লেখক, গবেষক ডা. কিউ. এম. অহিদুল আলম। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ আলী মনসুর, অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান, কায়েস চৌধুরী, ওয়াহিদ ফয়সাল, সদস্য সচিব সোহাইল উদ দোজা সোহেল, ফরিদ আহমেদ, রুবিনা ইয়াসমিন, নিজাম উদ্দিন আহমদ, এয়াকুব আলী রানা, ইকবাল আহমদ, ইয়াসমিন আক্তার রোজী, পরিবেশবিদ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ এবং কলেজের পক্ষে ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত ইকবাল ফারুকী, ছাত্র প্রতিনিধি হানিফুল ইসলাম ও রিদুয়ানুল হক।
প্রতিনিধি দলটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন, কলেজের মূল প্রবেশদ্বার, যা’ খ্যাতনামা শিল্পী সবিহ্ উল আলম-এর নকশায় ১৯৬৯ সালে কলেজের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নির্মিত হয়েছিল, তা’ গৌরব ও ইতিহাসের এক জীবন্ত নিদর্শন ছিল। শিল্পীর ভাষায় উক্ত গেইটটি জ্ঞান অর্জনের প্রতীকী প্রকাশ এবং গেটের স্থাপত্যে থাকা দুটি অক্ষর A ও K ছিল Acquire Knowledge এর সংক্ষিপ্ত রূপ, যা’ কোনোভাবেই অন্যকিছু নয়। সিডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যানকে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে এবং সিডিএ কর্তৃপক্ষ AK গেইট পুন:স্থাপনের পক্ষে মতামত দিয়েছেন। কলেজের খ্যাতিমান অনেক শিক্ষক ও প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে মো. আবু সুফিয়ান এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রফেসর চৌধুরী মঞ্জরুল হক, প্রফেসর আহমদ হোসেইনসহ অনেক প্রাজ্ঞজন এই Acquire Knowledge গেইট পুন:স্থাপনের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। উভয়পক্ষের আলোচনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ উক্ত গেইট পুন:নির্মানের যৌক্তিকতা স্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)’র মাধ্যমে কলেজ রোড প্রশস্তকরণ, কলেজের সীমানাপ্রাচীর পূণ:নির্মাণ, কলেজ মাঠসহ বেশ কয়েকদিকের গেইট সংস্কারকালে দুঃখজনকভাবে একটি ভ্রান্ত জনশ্রুতি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যানের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ঐতিহাসিক অর্থবহ গেইটটি বিনা অনুমতিতে ভেঙে ফেলা হয়। অথচ, সিডিএ’র সংস্কারকাজের প্রথম পর্যায়ের মূল নকশায় এই AK গেইটটিকে অক্ষুন্ন রেখেই ডিজাইন করা হয়। কিন্তু পরে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ও ভ্রান্ত ধারনায় AK বাদ দিয়েই পুন: নকশা করা হয় এবং গতানুগতিক একটা গেইট নির্মান করে।
আলোচনায় কলেজ অধ্যক্ষ কলেজের আবাসন সংকট এবং কলেজের বেশ কিছু চাহিদা তুলে ধরে প্রাক্তন ছাত্রদের ইতিবাচক সাড়ার ব্যাপারে জানান। নতুন ছাত্রবাস নির্মান, পুরোনো ছাত্রাবাসের সংস্কার, ছাত্রাবাসে লাইব্রেরির ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার্থীদের হোস্টেল, শিক্ষকদের আবাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ নেতৃবৃন্দ কলেজের চাহিদায় সহযোগিতার ব্যাপারে ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে প্রার্থীত AK গেইটটি পুন:স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানান।
পরিষদের সদস্যরা বলেন, চট্টগ্রাম কলেজ কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। চট্টগ্রামের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রতীক। প্রতিনিধিদলটি দাবী করেন ১) চট্টগ্রাম কলেজের অর্থবহ মূল “Acquire Knowledge” গেটটি পুনঃনির্মাণ ও স্ব-স্থানে মূল নকশাকারের নির্দেশনামত হুবহু পুনঃস্থাপন করা হোক ২) এটি ভাঙার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক ৩)ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম কলেজের ঐতিহাসিক, নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপত্য সংরক্ষণের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রাক্তন ছাত্র-শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ করুক এবং প্রয়োজনে প্রাক্তনদের সার্বিক সহযোগিতা নিক।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর