ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে এসব বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ। এদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আল জাজিরা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে বন্দর লেঙ্গেহ শহরেও একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলে জানিয়েছে আইআরএনএ।
তবে বিস্ফোরণের কারণ কিংবা এতে হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর ফলে এ ধরনের জব্দ করা ড্রোনের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন উদ্ভাবিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনী।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা
এমন পরিস্থিতির মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার প্রত্যাশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০ ডলার কমেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সম্ভাবনা নেই বলে মানুষ মনে করছে। তাঁর দাবি, ইরান যত দ্রুত সম্ভব একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় এবং চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান কূটনীতি ও সামরিক সংঘাত—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত। নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে তার জবাব আরও কঠোর হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর