• ঢাকা
  • ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ৩১ মিনিট পূর্বে
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:০৮ দুপুর

যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সরকারের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিশৃঙ্খল বাংলাদেশে পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।’ সংসদের ভেতরেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই বসন্তের কোকিল, যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্তকাল পার হওয়ার পর তাদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যাবে।’

জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বন্ধ করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিত। সরকারের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পারলে জনগণ সমর্থন দেবে। আর অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমন বা স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে তা আর বাংলাদেশে কার্যকর হবে না। জনগণ আর ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না, ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংঘবদ্ধ জনবল রুখে দাঁড়িয়েছে, রুখে দাঁড়াবে এবং দিন দিন এর গতি বৃদ্ধি পাবে। একটা জায়গায় গিয়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে।’

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিমানবন্দরের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রশংসা করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁর প্রতিবাদের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেকটা কমেছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সহকর্মী তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর প্রতিবাদ তখনই করেছি।’

বিমানবন্দরের ঘটনার পর দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান প্রশ্ন করেন, তাঁদের কোনো অপরাধ না থাকলে কেন বরখাস্ত করা হয়েছিল? তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে ট্রলি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানে যাত্রীদের ট্রলি পেতে লটারির মতো টানাটানি করতে হয়—কেউ পান, কেউ পান না। তাঁর ভাষ্য, একটি ট্রলি তিনজন যাত্রীর জন্য থাকার কথা। এরই মধ্যে দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, আখতারুজ্জামান যে দুর্বলতার কথা তুলে ধরেছিলেন, সেটিও কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে।

ব্যাগ কাটা ও লাগেজ চুরির অভিযোগ নিয়েও আখতারুজ্জামান কথা বলেছিলেন বলে জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শরীরে এসব ক্যামেরা রয়েছে। তাঁর দাবি, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘ধন্যবাদ মেজর আখতারুজ্জামান। আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। কাজ দিচ্ছে। এর সুফল এখন যুগ যুগ ধরে শাহজালাল বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীরা পাচ্ছেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা।’

আখতারুজ্জামানের কারাবাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জেল তো বহু খেটেছি। অনেক প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফল পাইনি। আপনি পেয়ে গেছেন। আমরা আরও লম্বা সময় জেলে ছিলাম, কিন্তু ফল পাইনি। এক মাসের বিনিময়ে আপনাকে একটা আগের কণ্ঠকে খাঁচায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু খাঁচায় কত দিন বন্দি রাখবেন? রাখতে পারেননি, পারবেনও না।’

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লজ্জাজনক মামলা দেওয়া এবং তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভিত্তিহীন এই মামলায় নিম্ন আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়নি। আখতারুজ্জামানকে চোখ বেঁধে নেওয়া, মাথায় হেলমেট ও বুকে সেফটি ভেস্ট পরানোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এত কিছুর পরও সেখান থেকে জামিন দেওয়ার সাহস হয়নি। পরে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে এবং সেখানকার জামিনের আদেশের পরও চেম্বার আদালতে বিষয়টি নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনাকে ‘ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

লজ্জা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যার গায়ে কাপড় নেই, তাকে দেখে সম্ভ্রমশীল মানুষ লজ্জা পায়। কিন্তু যার গায়ে কাপড় নেই, তার কোনো লজ্জা নেই। লজ্জা কবে আসবে? লজ্জা কি নির্বাসনে থাকবে? লজ্জা আসা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, যত দিন জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসবে, তত দিন তাঁদের লড়াই চলবে। মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না—এ কথাই সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

স্বাধীন/সা.এ.

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]