দক্ষিণী চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে আবারও আলোচনায় অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া তেলেগু সিনেমা ‘লেজেন্ড’-এ অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। সিনেমাটির গল্প, পুরুষতান্ত্রিক পরিবেশ এবং বয়সে অনেক বড় সহশিল্পীর সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয়—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে অস্বস্তিকর ছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি সহশিল্পী কীর্তি সুরেশের সঙ্গে নেটফ্লিক্সের ‘আক্কা’ সিরিজের প্রচারে জুমের এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রাধিকা। সেখানে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি একটি তেলেগু সিনেমার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। রাধিকা বলেন, ওই সিনেমায় তাঁর চরিত্রকে নিজের মামাকে বিয়ে করতে হয়েছিল। সেটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে কঠিন চরিত্র। সিনেমাটির প্রায় সবকিছুই তাঁর অপছন্দ ছিল।
রাধিকার কথা শুনে প্রথমে বিস্মিত হলেও পরে হেসে ওঠেন কীর্তি সুরেশ। তিনি উপস্থাপক ও দর্শকদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, তামিল ও তেলেগু সংস্কৃতিতে মামাতো বা চাচাতো আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের প্রচলন রয়েছে।
তবে রাধিকা নিজের অস্বস্তির অন্য দিকটিও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, বয়স্ক একজন অভিনেতার সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যে অভিনয় করতে হয়েছিল তাঁকে। পুরো পরিস্থিতিকে পুরুষতান্ত্রিক বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটিই ছিল তাঁর জন্য সবচেয়ে কঠিন। সিনেমার মাঝামাঝি সময়ে তাঁর চরিত্রের মৃত্যু হয়। একটি দৃশ্যে তাঁকে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার পরই পুরুষ চরিত্রটি অ্যাকশন দৃশ্যে চলে যায়। এ প্রসঙ্গে রাধিকা মজা করে বলেন, তিনি তখন ভাবছিলেন, তাঁর চরিত্রের মৃত্যু কখন হবে।
সাক্ষাৎকারে সিনেমার নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি রাধিকা। তবে তাঁর বর্ণনা থেকে চলচ্চিত্রটি বয়াপতি শ্রীনুর পরিচালিত ২০১৪ সালের ‘লেজেন্ড’ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিনেমাটিতে নন্দমুরি বালাকৃষ্ণের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—সিনেমায় রাধিকার চরিত্রটি নিজের মামাকে নয়, মামাতো ভাইকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে এ ধরনের বিয়ের প্রচলন রয়েছে। ‘লেজেন্ড’ মুক্তির সময় বালাকৃষ্ণের বয়স ছিল ৫৪ বছর, আর রাধিকার বয়স ছিল ২৯ বছর।
রাধিকা আপ্তে তাঁর ক্যারিয়ারে অল্প কয়েকটি তেলেগু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ২০১০ সালে রাম গোপাল ভার্মার ‘রক্ত চরিত্র’ দিয়ে তেলেগু চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয়। সিনেমাটি হিন্দিতেও মুক্তি পেয়েছিল। ২০১২ সালে প্রকাশ রাজের ‘ধোনি’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরপর ২০১৪ সালে ‘লেজেন্ড’ এবং ২০১৫ সালে বালাকৃষ্ণের সঙ্গে ‘লায়ন’ সিনেমায় দেখা যায় তাঁকে।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এর আগেও কথা বলেছেন রাধিকা। সম্প্রতি গালাট্টাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রশিল্পে গায়ের রংকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের সমালোচনা করেন তিনি। রাধিকার মতে, একসময় অনেক উত্তর ভারতীয় অভিনেত্রীকে দক্ষিণী সিনেমায় নেওয়ার পেছনে তাঁদের ফর্সা গায়ের রং একটি কারণ ছিল। বিষয়টিকে আপত্তিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিশেষ ও যথাযথ কারণে তাঁকে নির্বাচন করা হলে তবেই দক্ষিণী সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহী হবেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ ভারতের শিল্পীদের নিজেদের ভাষার সিনেমায় কাজের সুযোগ পাওয়া উচিত।
সর্বশেষ নেটফ্লিক্সের ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’-এ অভিনয় করেছেন রাধিকা। একই প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে তাঁর ও কীর্তি সুরেশ অভিনীত ওয়েব সিরিজ ‘আক্কা’।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর