• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ সেকেন্ড পূর্বে
এহসানুল হক মিয়া
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৯ রাত

ফরিদপুরে ১৬ বছরেও এমপিও হয়নি কলেজটি, ছয় শিক্ষার্থীর সবাই ফেল  

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ফরিদপুর সদর উপজেলার তাম্বুলখানা এলাকায় অবস্থিত কবি জসিমউদদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছয় শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়া, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং পাঠদান কার্যক্রমে অনিয়মের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির এমন ফল বিপর্যয় নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এ বছর নয়জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেন ছয়জন। তাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেননি। অর্থাৎ কলেজটির পাসের হার শূন্য। চারজন শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ছয়জন পরীক্ষার্থীর কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে কবি জসিমউদদীন স্কুল নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে স্কুল শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬০০। পরে ২০১১ সালে কবি জসিমউদদীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে কলেজ শাখা চালু করা হয়। শুরুতে নয়জন শিক্ষক নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বেতন-ভাতা না পাওয়ায় বছর তিনেক আগে পাঁচজন শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে চারজন শিক্ষক থাকলেও তাঁদের সবাই নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে পাঠদানের অনুমতি পায় এবং ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে স্বীকৃতি লাভ করে। তবে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। কলেজের নিজস্ব কোনো ভবনও নেই। স্কুল ভবনেই কোনোমতে অনিয়মিতভাবে কলেজের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পলাশ কুমার রায় বলেন, ছয়জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে, এ ব্যর্থতার দায়ভার আমরা এড়াতে পারি না। পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত ছিল না। তারা দূর থেকে আসত এবং নিয়মিত পড়ালেখা না করায় সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ফলাফল না হয়, সে জন্য ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০১১ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হলেও আজ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষকরা কোনো বেতন পান না। পকেটের টাকা খরচ করে শিক্ষকদের কলেজে আসতে হয়। এ কারণে তাঁদের নিয়মিত উপস্থিতিতে অনীহা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখা না করার কারণেও এমন ফলাফল হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পল্লীকবির নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি সত্যিই লজ্জাজনক। আগামীতে যাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছয়জন পরীক্ষার্থীর জন্য চারজন শিক্ষক রয়েছেন, অথচ ছয়জনই ফেল করেছেন। তাহলে সারা বছর সেখানে পড়ালেখার মান কেমন ছিল, তা সহজেই অনুমেয়। এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। পাসের হার শূন্য হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যর্থতার দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল বলেন, যদিও কলেজের বিষয়টি তাঁর দপ্তরের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, তারপরও একটি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী ফেল করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি নিয়ে কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে পাসের হার শূন্য না থাকে।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]