ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী সরকার গঠনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ফার্স্টপোস্টের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পায়নি কোনো পক্ষ। নেতানিয়াহুর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে একক দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি আসন। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দুই নেতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল গ্রহণের পর বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেন। কোন নেতা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে পারবেন, তা বিবেচনা করেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটস, বি’ইয়াচাদ, ইসরায়েল বেইতেনু ও রা’আমসহ কয়েকটি দলের সমর্থনে তাঁর পক্ষে ৫৬ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোট ৫৩ আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। রা’আমের নেতা মনসুর আব্বাস আইজেনকটকে প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তবে ১১ আসনের জয়েন্ট লিস্ট তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানায়নি।
চ্যানেল ১২-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট লিস্ট আইজেনকটের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারে। দলটি তাঁকে সমর্থন অথবা ভোটদানে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। দলটির ১১ আইনপ্রণেতা আইজেনকটকে সমর্থন দিলে তাঁর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সরকার গঠনের পথে আইজেনকটের জন্য চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠন, আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরতা কিংবা অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিরোধিতা করেছেন। ফলে আইজেনকটের সম্ভাব্য জোট গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সরকারে যুক্ত করার বিরোধিতা করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, এসব দলকে সরকারে অন্তর্ভুক্ত করা হলে ইসরায়েল ভেঙে পড়বে। এ অবস্থান তাঁর জোটের বিকল্প সমর্থন পাওয়ার পথ আরও কঠিন করতে পারে।
এদিকে, নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অতি-গোঁড়া ইহুদি দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে)। দলটির সাতটি আসন রয়েছে। তবে এর চার আসনের ডেগেল হা তোরা অংশ কোনো প্রার্থীকেই প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ না করার ঘোষণা দিয়েছে।
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সবচেয়ে বড় দলের নেতাকে নয়, বরং যিনি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জোট গড়তে পারবেন বলে মনে হবে, তাঁকেই দায়িত্ব দিতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে।
এদিকে, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এড়াতে দলগুলোকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তিনি বলেছেন, সরকার গঠন করতে হলে সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব হবে না। এজন্য রাজনৈতিক নেতাদের নমনীয়তা, সৃজনশীলতা ও সদিচ্ছা দেখাতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনে নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের পাশাপাশি আরব দলগুলোর অবস্থান এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর