যে ফলের অপেক্ষায় ছিলেন সবাই, সেই ফল এসেছে। দশটি বিষয়ের মধ্যে নয়টিতে এ প্লাস, একটিতে এ। ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ-৫.০০। কিন্তু এই সাফল্যের খবর শোনার জন্য বেঁচে নেই বগুড়ার শেরপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. সুমাইয়া খাতুন।
ফল প্রকাশের আগেই তিনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষায় সুমাইয়া জিপিএ ৪.৮০ পেয়েছেন। ঐচ্ছিক বিষয়সহ তাঁর জিপিএ ৫.০০। যে ফলে পরিবারে আনন্দের বন্যা বয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই শোক আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা। সুমাইয়া শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর রোল নম্বর ৪১২৭৯৪। তিনি শালফা গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেন ও মোছা. রেশমা খাতুনের মেয়ে। বিয়ে হয়েছিল উপজেলার শুভগাছা গ্রামের আব্দুল মতিনের সঙ্গে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া গর্ভবতী অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গর্ভে ছিল তিনটি সন্তান। ফল প্রকাশের আগেই গত ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। সুমাইয়ার জন্ম ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। স্বজনেরা বলছেন, যে মেয়ের ফলের অপেক্ষায় থাকার কথা ছিল তাঁদের, সেই মেয়েই আজ নেই। নয়টি বিষয়ে এ প্লাস পাওয়ার খবর এসেছে ঠিকই, কিন্তু নিজের সাফল্যের কথা জানার কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ আর হলো না তাঁর। একদিকে মেধার স্বাক্ষর রাখা উজ্জ্বল ফল, অন্যদিকে অকালে জীবনের অবসান।
সুমাইয়ার গল্প এখন পরিবার ও স্বজনদের কাছে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। তাঁর অর্জন স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কিন্তু সেই অর্জনের আনন্দ উপভোগ করার মানুষটি আর নেই। সুমাইয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর