ইসরায়েলের নির্বাচনের আগের রাতে ইরানের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান। তবে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে পরিকল্পনার খবর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। পরে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে সেই অভিযান ভেস্তে যায়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত অভিযানটির ধরন বা লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তারা ওই অভিযানের পক্ষে ছিলেন না। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এমন অভিযান ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তবে বিরোধিতা সত্ত্বেও অভিযানটির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি জানতে পারে। এরপর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ওয়াশিংটন এবং পরিকল্পনাটি বন্ধ হয়ে যায় বলে চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, নেতানিয়াহু নিজেই সে সময় স্পষ্ট করেছিলেন যে ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাঁর আলোচনায় ছিল না।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবরও চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান এয়াল জামিরের মধ্যে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে একটি অনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সেটি আঞ্চলিক সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।
পরদিন ২৬ অক্টোবর চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের চাওয়া সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিলেন সেনাপ্রধান জামির। এ নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ অবসানের আলোচনা চলমান রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক আলোচনাকে সময় দিতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভালো অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবস্থানে ভিন্নতা রয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর