টেস্টোস্টেরন পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন। পুরুষের প্রজনন অঙ্গের বিকাশ, শুক্রাণু উৎপাদন, যৌন আকাঙ্ক্ষা এবং পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে পারে। তবে হরমোনের ঘাটতি সবার ক্ষেত্রে একই রকম হয় না।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে হরমোনের ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে, সেগুলো হলো—
১. শরীরের লোম কমে যাওয়া: টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে মুখ, বগল ও শরীরের অন্যান্য স্থানের লোমের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।
২. পেশির ঘনত্ব ও শক্তি কমে যাওয়া: পেশি গঠন ও ধরে রাখতে টেস্টোস্টেরন ভূমিকা রাখে। এ হরমোনের মাত্রা কমে গেলে পেশির ভর ও শক্তি কমতে পারে।
৩. যৌন ও প্রজনন সমস্যা: টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, উত্থানজনিত সমস্যা এবং শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে বন্ধ্যত্বের একমাত্র কারণ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি নয়।
৪. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা: হরমোনের ঘাটতির সঙ্গে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা, মানসিক ক্লান্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতিসংক্রান্ত সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
৫. বিষণ্নতা ও মেজাজের পরিবর্তন: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে কারও কারও মধ্যে মন খারাপ, বিরক্তি, আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
৬. হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া: হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতেও টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এ হরমোনের ঘাটতি থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, ফলে অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সকালে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নয়, উপসর্গ ও পুনরায় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেই
স্বাধীন/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা এর সর্বশেষ খবর