সুন্দরবনের দুবলার চরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়া ময়মনসিংহের পর্যটক রিয়াজ আহমেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। টানা দুই দিনের বিরতিহীন অভিযানের পর শনিবার (৭ নভেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বন বিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, পর্যটক রিয়াজ আহমেদ যে স্থান থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন, সেখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভাটার স্রোতে তাকে বঙ্গোপসাগরের দিকে টেনে নিয়ে গেলেও জোয়ারের চাপে মরদেহটি নদীর চরে আটকে যায়। দুবলার চরে মৎস্য আহরণকারী জেলে আব্দুল মান্নান টানার মাথা খালের নদীর চরে মরদেহটি ভাসতে দেখে বন বিভাগকে অবহিত করেন। নিহত রিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাঠালি পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে গত ৫ নভেম্বর পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশন থেকে মিজানুর রহমান পরিচালিত ‘ইকো ট্যুরিজম-২’ নামক নৌযানে নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা-গাজীপুরের ১৯ জন পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে যান। ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত দুবলার চরে পৌঁছানোর আগেই নৌযানটি নতুন জেগে ওঠা চরে আটকে যায়। নৌযানটি ছাড়ানোর জন্য পর্যটকরা নিচে নামলে রিয়াজ আহমেদ নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. শাহিনুর ইসলাম জানান, দুই দিনের অভিযানের পর নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মরদেহ উদ্ধারের খবরে নিহতের পরিবার ও সহযাত্রীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং সাগরপাড়ে স্রোত সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সমন্বিত সিদ্ধান্তে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর