• ঢাকা
  • ঢাকা, রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
শাহীন মাহমুদ রাসেল
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২৬ দুপুর

অপহরণের পর মানবপাচার, সাগরপথে বাড়ছে ভয়ংকর অপরাধ

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

প্রতিবন্ধী এনামুল হক কায়েস। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। হ্নীলার একটি বনফুলের দোকানে কাজ করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। হঠাৎ একদিন নিখোঁজ হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। প্রায় ১০ দিন পর জানা গেল, সাগরে ভাসমান একটি ট্রলারে ছিলেন কায়েস। সেন্টমার্টিন উপকূল থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধার করা ৭৬ জনের মধ্যে তিনিও একজন।

পরিবারের অভিযোগ, কায়েসকে অপহরণ করে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। পরে তাকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলারে তোলা হয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও মানবপাচারকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তিনি।

কায়েসের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। টেকনাফে এখন অপহরণ ও মানবপাচার যেন একই অপরাধের দুই ধাপ হয়ে উঠেছে। প্রথমে অপহরণ, এরপর পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি। মুক্তিপণ আদায় সম্ভব না হলে কিংবা পাচারের জন্য উপযুক্ত সুযোগ তৈরি হলে ভুক্তভোগীদের তুলে দেওয়া হচ্ছে দালালদের হাতে। সেখান থেকে নৌকা বা ট্রলারে করে শুরু হচ্ছে অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা।

সাগর শান্ত হওয়ায় টেকনাফ উপকূলে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী চক্র। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে সাগরপথে পাচারের সময় রোহিঙ্গাসহ অন্তত দেড় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় আটক করা হয়েছে অন্তত ১৫ জন দালালকে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অপহরণের শিকার মানুষও রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৮০ কিলোমিটার উপকূলের অরক্ষিত ঘাট, পাহাড়ি আস্তানা ও দুর্গম এলাকাকে ব্যবহার করে চলছে এই তৎপরতা। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, টেকনাফ সদর ও শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় বেড়েছে দালালদের আনাগোনা।

কায়েসের বাবা আহমুদুল রহমান বলেন, ‘আমার ছেলে প্রতিবন্ধী। সে-ই ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র আয়-রোজগারের ভরসা। একদিন দোকানদার ফোন করে জানতে চান, ছেলে বাড়িতে ফিরেছে কি না। তখন বুঝতে পারি, সে নিখোঁজ হয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান পাইনি। পরে জানতে পারি, সাগর থেকে নৌবাহিনী যাদের উদ্ধার করেছে, তাদের মধ্যে আমার ছেলেও রয়েছে।’

কায়েসের মতো অপহরণের শিকার হয়ে পাচারের মুখে পড়েছিলেন টেকনাফের আয়াত উল্লাহ। তিনি টেকনাফ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একদিন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর টার্মিনাল এলাকা থেকে কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে মৌচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে আটকে রাখা হয় তাকে। সেখানে তার মতো আরও অনেককে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।

আয়াত উল্লাহর ভাষ্য, প্রথমে তাকে ৩০ হাজার টাকায় এক দালালের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে ওই দালাল আরও এক লাখ টাকায় তাকে অন্য একজনের কাছে বিক্রি করেন। প্রায় এক মাস পাহাড়ে আটকে রাখার পর তাকে ও অন্যদের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া এলাকায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন সাগরে একটি ট্রলারে তুলে দেওয়া হয়।

আয়াত উল্লাহ বলেন, ‘তিন দিন সাগরে চলার পর বোটটি বিকল হয়ে যায়। তখন বোটে পানি ঢুকতে শুরু করে। আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। মনে হচ্ছিল, আর হয়তো প্রাণে ফিরতে পারব না। পরে নৌবাহিনী আমাদের উদ্ধার করে। আল্লাহর রহমতে আবার জীবন ফিরে পেয়েছি।’

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মোস্তাক আহমেদকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। পরে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দর-কষাকষির পর পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন দিন পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তবে মুক্তিপণ আদায় করতে না পারলে অনেক অপহৃত ব্যক্তির ভাগ্যে জোটে আরও ভয়াবহ পরিণতি। তাদের পাচারের উদ্দেশ্যে দালালদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের (৩২) এমনই একজন। তাকে অপহরণের পর পাহাড়ি আস্তানায় তিন দিন আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন করা হয়। পরে শামলাপুর উপকূল থেকে একটি ট্রলারে তুলে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয় তাঁকে।

প্রায় চার বছর পর ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দেশে ফেরেন সাবের। কিন্তু নির্যাতনের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। মাথা ও চোখে স্থায়ী ক্ষতি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন না তিনি।

সাবেরের মতো অনেক ভুক্তভোগী ফিরে এলেও অনেকে আর ফিরতে পারেননি। তাদের স্বজনেরা এখনো অপেক্ষায় আছেন, কেউ ফিরে আসবেন কি না।

সর্বশেষ সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকা থেকে ১১ দালালসহ ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এর আগে বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া এলাকায় পাচারের সময় রোহিঙ্গাসহ ১৬ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ছাড়া রাজারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় পাচারকারীদের ২০টি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয় বিজিবি ও পুলিশ। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে অপহৃত ১৬ জনকে উদ্ধার এবং এক দালালকে আটক করা হয়। গত সোমবার কচ্ছপিয়া এলাকায় সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে উদ্ধার করে এসআরবি।

এসআরবি-১৫-এর সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক বলেন, সাগর শান্ত হওয়ায় দালালরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা বেশ কিছু মানুষকে দালালসহ উদ্ধার করা হয়েছে। পাচারকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ‘উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্রুত সময়ের মধ্যে অনেক অপরাধী কারামুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। অপরাধ দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় টেকনাফে অপরাধ রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফরিদ উল্লাহ বলেন, সাগর শান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানবপাচারকারীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক পাচারকারী কারামুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছেন। বিশেষ করে পাহাড় ও মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় দালালদের তৎপরতা বেড়েছে।

তার ভাষ্য, কয়েক দিনের মধ্যেই পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আস্তানায় জড়ো করে রাখা অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের অপহরণ করে পাচারের জন্য আটকে রাখা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মানবপাচারের সঙ্গে কিছু নৌকার মালিক, মাঝি-মাল্লা এবং স্থানীয় ও রোহিঙ্গা দালাল চক্র জড়িত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহের পাশাপাশি অপহরণের মাধ্যমেও ভুক্তভোগী সংগ্রহ করছে এসব চক্র।

২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কক্সবাজার উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়াগামী ৩ হাজার ৫৩৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। এসব ঘটনায় উখিয়া ও টেকনাফ থানায় ১২০টি মামলা হয়েছে।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সেন্টমার্টিন উপকূল থেকে পাচারের সময় ২৬৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, গত তিন বছরে টেকনাফে ৩৩০ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পাওয়া অনেক ভুক্তভোগী পরবর্তী সময়ে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন।

পাচারকারীদের প্রলোভন ও জবরদস্তিতে সাগরপথে যাত্রা করা মানুষের অনেকের ভাগ্যেই জোটে মৃত্যু কিংবা নিখোঁজ হওয়ার পরিণতি।

এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, গত জুনে মিয়ানমারের রাখাইন উপকূল থেকে যাত্রা করা রোহিঙ্গাবাহী দুটি নৌকা ডুবে ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের শরণার্থীশিবির থেকে যাত্রা করা রোহিঙ্গারাও ছিলেন।

সংস্থা দুটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার সময় প্রায় ৩০০ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন।

নিখোঁজদের একজন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নেংগুলবিল গ্রামের কৃষক বেলাল মিয়া। তার স্ত্রী আয়েশা বেগম তিন সন্তানের জননী। বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। প্রায় তিন মাস ধরে স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী পানের বরজে কাজ করে সংসার চালাতেন। একদিন হঠাৎ ফোন করে বলেছিলেন, দালালরা আমাকে জোর করে বোটে তুলে দিয়েছে, দোয়া করিও। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাইনি। পরে জানতে পারি, ট্রলারটি সাগরে ডুবে গেছে। যারা ফিরে এসেছে, তাদের কাছ থেকে শুনেছি, আমার স্বামীও ওই ট্রলারে ছিলেন। স্বামীকে হারিয়ে কীভাবে বাঁচব? এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি আমার নেই।’

মানবপাচারের ঘটনায় নিয়মিত মামলা হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার বছরের পর বছর ঝুলে রয়েছে। পৃথক ট্রাইব্যুনালের অভাব, সাক্ষীর সংকট ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে জামিনে মুক্ত হয়ে অপরাধে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা।

জেলা পুলিশ ও জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কক্সবাজারে ৬০০টির বেশি মানবপাচার মামলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৮০টি মামলা এখনো বিচারাধীন। এসব মামলার ৩০০টির বেশি উখিয়া ও টেকনাফের।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী বিশ্বজিৎ ভৌমিক বলেন, কক্সবাজার মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হলেও সেখানে এখনো পৃথক মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল চালু হয়নি। ফলে প্রায় ৫০০ মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকায় নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিচ্ছে।

তিনি মনে করেন, পৃথক ট্রাইব্যুনাল চালু এবং সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি ও কার্যকর বিচার সম্ভব হবে।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, ২০১৪-১৫ সালে থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ায় গণকবরের ঘটনা প্রকাশের পর মানবপাচার কিছুটা কমলেও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর বিয়ে ও কাজের প্রলোভনে পাচার আবার বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘পাচারকারীরা এখন কৌশল বদলে প্রলোভনের পাশাপাশি অপহরণের মাধ্যমেও ভুক্তভোগী সংগ্রহ করছে। মানবপাচার, মাদক, চোরাচালান ও হুন্ডি চক্র পরস্পর সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এসব অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ এবং মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, অপহরণ ও মানবপাচার একই সূত্রে গাঁথা অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অপহৃত ব্যক্তিদের মানবপাচারের শিকার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের আন্তসম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে অপহরণ ও মানবপাচার রোধে জনসচেতনতা এবং সবার সহযোগিতা জরুরি।

টেকনাফ উপকূলে এখন মানবপাচারের চেহারা বদলেছে। আগে কাজ, বিয়ে কিংবা উন্নত জীবনের প্রলোভনে মানুষকে সাগরপথে নেওয়া হতো। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে অপহরণ, জিম্মি করে রাখা, মুক্তিপণ আদায় এবং মানুষ কেনাবেচার মতো ভয়াবহ অপরাধ। কায়েসের মতো প্রতিবন্ধী তরুণ, আয়াত উল্লাহর মতো শিক্ষার্থী কিংবা সাবেরের মতো শ্রমজীবী মানুষ কেউই নিরাপদ নন। আর বেলাল মিয়ার মতো অনেকে সাগরে হারিয়ে গিয়ে রেখে যাচ্ছেন অপেক্ষায় থাকা পরিবার।

উপকূলের অরক্ষিত ঘাটে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন দালাল আটক কিংবা কিছু মানুষ উদ্ধার করেই এই অপরাধের অবসান সম্ভব নয়। প্রয়োজন পাচারচক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা, অর্থের লেনদেনের পথ বন্ধ করা এবং বছরের পর বছর ঝুলে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা। তা না হলে সাগর শান্ত হওয়ার প্রতিটি মৌসুমেই নতুন করে বিপদে পড়বেন টেকনাফের মানুষ।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]