ফুটপাতে থাকা কিছু মানুষের গল্প

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই ২০১৭, ০৮:০৪ পিএম

ফুটপাতেই থাকেন তারা, ফুটপাতে ঘুমায় আর ফুটপাতেই খায়। ঝড়-বৃষ্টি আসলে ভিজে, রোদে শুকায়। আর মশার কামড় খাওয়া এখানে যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে। ফুটপাতই যেন এখন তাদের জীবনের একটা বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমনই কতগুলো মানুষ বাস করে আসছে রাজধানীর বাংলামটরে বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়কের ফুটপাতে। যার পাশেই পান্থকুঞ্জ পার্ক। পলিথিনের ছাউনি মোড়ানো ছোটছোট ঘর বানিয়ে এখানে বাস করে প্রায় শতাধিক মানুষ। যার মধ্যে কেউ কেউ আছেন দীর্ঘদিন ধরে।

&dquote;&dquote;

এমনই একজন হলেন মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। দীর্ঘ ৪ বছর যাবত এখানে থাকছেন তিনি। তার বাড়ি ময়মনসিংহে। এখানে রিকশা-সাইকেল ঠিক করার কাজ করেন তিনি। বিডি২৪লাইভের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ঝড় আসলে মাঝে মাঝে তাদের পলিথিনের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে যায়। তখন তাদের ভিজতে হয়।

তিনি বলেন, গরীবের দুঃখ-কষ্ট সবসময় একসমান। রোদ, বৃষ্টি বা শীতে সবসময়ই এক সমান। গরীবের রোদও সহ্য করতে হবে বৃষ্টিও সহ্য করতে হবে। অনেক কিছু সহ্য করতে হবে, যা বড়লোকে পারবে না। মশার দিনে মশার সমস্যা, বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির সমস্যা। আমাদের এসব সমস্যা নিয়েই থাকতে হয়। গরীবের বোঝা পাহাড়তুল্য সবসময়। গরীব হওয়াটাই দায়।

&dquote;&dquote;

কথাগুলো বলার সময় যেন মনের ভেতর জমে থাকা ক্ষোভ ঝাড়ছিলেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলেন আড়াই বছরধরে এখানে বাস করে আসা রাজবানু। যার স্বামী থেকেও নেই। মানুষের বাসাতে কাজ করেন আর রাতে এখানেই থাকেন এক মেয়ে নিয়ে।

রাজবানু বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার স্বামী থেকেও নাই। আমাকে দেখে না, খোজখবর নেয় না। এখানে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। কষ্ট হলেও কষ্ট সহ্য করেই থাকতে হবে। মাঝে-মাঝে পুলিশ এখানে এসে মারে, ঘাট্টিঘুট্টি নিয়ে যায়, এখান থেকে উঠিয়ে দেয়। পুলিশ যাওয়ার পর আবার আমরা বসে পড়ি। ঝড় আসলে আমাদের সব খুলে নিয়ে যায়, খাতা-কাপড় সব ভিজে যায়। পরে আবার সব ঠিক করতে হয়। ঝড়-তুফান সব সহ্য করে এখানে আছি। সরকার আমাদের দেখে না।

&dquote;&dquote;

মশার সাথেও তাদের যুদ্ধ করে বাঁচতে হয় প্রতিনিয়ত। তবে সে যুদ্ধে মশারই জয় হয়। কারণ এখানে এত পরিমাণ মশা যে কয়েল দিয়ে নিস্তার নেই। তাই তারা মশার কামড় খেয়েই এখানে বাস করে আসছেন।

রাজবানু জানান, এখানে মশার কামড়ে কয়েকদিন আগে চিকনগুনিয়া হয়েছিল তার। যার ভুক্তভুগি এখনও তিনি। বলেন, চিকনগুনিয়ার ব্যাথায় বাঁচি না। নড়তে পারি না, ঠিকমত কাজও করতে পারি না।

অন্যদিকে ৮ বছরের জহুর আলী এখানে মায়ের সঙ্গেই থাকে। তার মা অন্যের বাসায় কাজ করে। তাদের বাড়ি রংপুরে। জহুর আলী বিডি২৪লাইভকে বলে, আমরা এখানেই থাকি, এখানেই খাই, এখানেই ঘুমাই। মা অন্যের বাসায় কাজ করা শেষে রাতে এখানে রান্না করে। রান্নার জন্য ছোট চুলা আছে।

&dquote;&dquote;

সে বলে, এখানে বৃষ্টি আসলে সমস্যা হয়। অনেক মশা আছে। মশা কামড়ায়। থাকতে অনেক কষ্ট হয়। আমরা গরীব বলেই এখানে থাকি।

৩ ভাই আর বাবা-মায়ের সঙ্গে এখানে থাকে লালমনিরহাটে জন্ম নেয়া ৭ বছরের শিশু মোহাম্মদ রাশেদ। জহুর আলীর মত সেও জানায়, তাদের এখানে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক সময় ভিজতে হয়।

&dquote;&dquote;

সে বলে, বৃষ্টি আসলে পলিথিন দেই। তারপরেও কাজ হয় না। এখানে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। টাকা নাই বলে এখানে থাকি। মাঝে মধ্যে পুলিশ এসে সব ভেঙ্গে দেয়। পুলিশ যাওয়ার পর আবার আমরা সব ঘুছিয়ে এখানে থাকি।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: