পাখির প্রতি সোহাগের ভালোবাসা

প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০২:৪৭ পিএম

'সোহাগ হোসেন'

 

ভালবাসা শব্দটি-ই হল স্পেশাল। কেউ বা মানুষকে ভালবাসে। আবার কেউ সেটার বিপরীত প্রতিফলন ঘটিয়ে ভালবাসে অন্য কিছুকে। সেটা হতে পারে বৃক্ষ,হতে পারে বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি।

রাশেদ বিশ্বাস খুব সহজে বদলে দেওয়া একজন মানুষ। খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার আগড়ঝাড়া গ্রামের মধ্যবিত্ত এক পরিবারে জন্ম তার। সরকারি বি এল কলেজ থেকে ইংরেজি বিভাগে পড়াশুনা শেষ করে বর্তমানে তালা উপজেলার শতদল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক। ছাত্রজীবন থেকেই রাশেদকে পাখি, বন্যপ্রাণী এগুলো খুব করে টানতো। সেই সুবাদে সে "Save Wild Life" অর্থাৎ বন্যপ্রাণী সংরক্ষন নামে একটি সংঘটনট তৈরী করে। পড়ার পাশাপাশি কিংবা ছুটির সময় সে পাখি ও জীববৈচিত্র নিয়ে কাজ করতে খুব উৎসুখ ছিল। এলাকায় যারা ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করতো,তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করে, কিংবা সচেতনতা বৃদ্ধি করে পাখি শিকারীদের সরিয়ে আনতো। এই দিয়েই যাত্রাশুরু তার। এরপর কর্ম জীবনে- চাকরির ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন এলাকায় পাখি ও বন্যপ্রাণী নিধনকারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরী করেন। শপথ নেওয়ান যারা পাখি শিকার করেন তাদের। এলাকার জনগনকে আগ্রহী করে তোলে পাখি শিকারীদের বাঁধা প্রদানের জন্য।

প্রকৃতি ও পাখিকে তো ভালোবাসে সবাই। কিন্তু পাখির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশের ধরণটা এক এক জনের ক্ষেত্রে এক এক রকম। কেউ হয়তো বাসার খাঁচায় পাখি পুষতে ভালোবাসেন, আবার কেউ খাঁচার পাখিকে মুক্ত করে দিয়ে আনন্দ পান। অনেকে আবার ভালোবাসার মানুষটিকে আদর করে পাখি সম্বোধন করে।এমনও কিছু মানুষ আছে যারা নির্বিচারে পাখি মেরে ফেলে বা পাখির ছানা ধরে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করে ফেলেন।

এলাকার লোকজন রাশেদের এ কাজকে প্রথমে এ হেয়ালি করেন। বন্যপ্রাণী রক্ষায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়,অবিবেচক মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করেন। পাখি শিকারীদের প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন মানুষের সাহায্য প্রার্থনা করে রাশেদ ব্যর্থ হয়। এজন্য অনেকের রোসানলে পড়তে হয় তাকে।

মানুষের আশা মানুষের মতই সত্যি। খুব দৃঢ় আশা কখনোই বিফলে যায় না। কোন আশাই নিঃসঙ্গ নয়। কোথাও না কোথাও ভরসা আছে,থাকতেই হবে,খুঁজলে মিলবেই। আর আশা কেবল মানুষের জন্যই। খুব প্রতিকূল সময়ে রাশেদ এই কথাগুলোকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিভাবে স্রেফ আশার জোরেই স্বপ্ন সত্যি হয় সেটাই রাশেদের পাখি-প্রকৃতির গল্প।

তার পাখি প্রকৃতি সংরক্ষণ সচেতনতা ধীরে ধীরে বিস্তৃতি লাভ করে। কখনো বা নিজ এলাকায় আবার কখনো ভিন্ন জেলায় নিজের অর্থ খরচ করে যারা পাখি শিকার করে তাদেরকে সচেতন করে বেড়ান। কখনো বা বিভিন্ন স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সচেতনতামুলক অনুষ্ঠান করেন। পাখি শিকারীদের সামনে পেলে যেন তারা বাঁধা দেয় সে এই শপথ করান। পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস যোগান। শিকারীরা প্রকৃতির শত্রু। তার এ কাজকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ পাখি ও বন্যপ্রাণী বিশ্লেষক শরিফ খান একটা সময় সাড়া দেন। তাকে উৎসাহ দেন।তাতে তার কাজে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

একটা সময় রাশেদের এ প্রকৃতি প্রেমের গল্প ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে আমেরিকা পর্যন্ত পাড়ি জমায়। সেখানকার একজন প্রকৃতিপ্রেমী তার কাজে খুশি হয়ে তাকে একটি স্যামসাং S8 মোবাইল উপহার দেন এবং তার কাজকে সারাদেশ জুড়ে করার আহ্বান জানান। ভাল কাজের প্রতিদান পায়ে হেঁটে চলে আসে তার প্রমান এটা।

রাশেদ বিশ্বাসের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এমন ব্যাতিক্রমী কাজে কেন উদ্বুদ্ধ হলেন। তিনি জানালেন ‘আমি পাখি-প্রকৃতি ভালবাসি। পাখি যখন আকাশে উড়েবেড়ায় আমার খুব ভাল লাগে। মানুষের মত সব প্রাণীর বাঁচার অধিকার আছে। তাই তাদের নিয়ে কাজ করি। আরও বলেন,সবার কাছে আমার আকুল অনুরোধ,পাখি ও বন্যাপ্রাণীর প্রতি সবাই সদায় হোন।বন্যপ্রাণী ও পাখি নিধোনকারীদের প্রতিরোধ করুন। প্রকৃতি বাঁচান নিজে বাঁচুন।

আমাদের দেশ থেকে অনেক জাতের পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ প্রকৃতি, জলবায়ুর ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে আমাদেরকে প্রকৃতির প্রাণ জীববৈচিত্র পাখি বন্যপ্রাণী এদের টিকিয়ে রাখতে হবে। কারন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভুমিকা অস্বীকার্য। প্রকৃতি বাঁচলে মানুষও বাঁচবে।

আলোর বাহিরে নিভৃতে প্রকৃতির সেবায় নিয়োজিত আছেন রাশেদের মত মানুষেরা। যাদের উপর নাই এই সমাজের লাইট, ক্যামেরার ফোকাস তবুও আপন মনে মানব সেবায় নিয়োজিত আছেন রাশেদরা। আমরা আশাকরি এমন রাশেদ বিশ্বাস গড়ে উঠবে বাংলাদেশের প্রতিটা অঞ্চলে এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে। এইভাবে প্রকৃতি ও পাখিদের সেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা সবাই যদি এগিয়ে আসি তবে পৃথিবী গ্রহটা হয়ে উঠবে শান্তিময়।

 

বিডি২৪লাইভ/এসএস

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: