প্রলয়ের প্রানোচ্ছল তারুণ্য কি থমকে যাবে?
একটি সন্তানকে ছোট থেকে গড়ে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ভর্তি করানো পর্যন্ত কতইনা কষ্ট তা শুধু ঐ সন্তানের বাবা-মা আর তার পরিবারই বুঝে। কিন্তু সেই সন্তানটি যদি পড়াশুনার শেষ পর্যায়ে এসে জীবন মরণ সন্ধিক্ষণে পড়ে যায় তাহলে সেই পরিবারের সামনে এক বিশাল সংকটময় মুহুর্ত চলে আসে।
যা কোন সময়ই কাম্য ছিল না ঐ পরিবারের জন্য। হুম এমনই জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী প্রলয় চৌধুরী।
প্রলয় চৌধুরী প্রায় তিন বছর যাবৎ লিভার জটিলতা সংক্রান্ত অসুখে ভুগছেন। তার পরিবার এতোদিন যতদূর সম্ভব তার চিকিৎসা করিয়ে আসছিল। এজন্য কয়েকবার ভারতে গিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্নও হয়েছেন। কিন্তু এ রোগের চিকিৎসা প্রচুর ব্যয়বহুল হওয়ায় তার পরিবারের নিয়মিতই হিমসিম খেতে হয়েছে। তার লিভারের প্রায় ৭০% ই অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব তার লিভার সংস্থাপন করা। যা খুবই ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমন অবস্থায় তার পরিবার আশাহত। দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে আছে তাদের সন্তানটিকে নিয়ে।

লিভারের এ জটিল সমস্যায় জর্জরিত প্রলয় বর্তমানে চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রলয়ের লিভারের প্রায় ৭০ শতাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে। তাকে বাঁচাতে হলে আগামী ১৫/২০ দিনের মধ্যেই অপারেশন করতে হবে যা সত্যিই দুরূহ একটি কাজ। কেবল লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বাবদই প্রয়োজন হবে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। আনুষঙ্গিক খরচসহ সব মিলিয়ে প্রলয়কে বাঁচাতে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
প্রলয় মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার পরিবারের পক্ষে এই ব্যয় বহন করা রীতিমত অসম্ভব। এতদিন পারিবারিক খরচেই চলছিল তার চিকিৎসা। তবে অর্থাভাবে চিকিৎসার খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এখন চিকিৎসা অনেকটাই থমকে যেতে বসেছে। তার বাবা প্রাইমারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মা প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক, ভাই একজন প্রাইভেট অফিসে চাকরি করেন।
তার বাবা ব্যবসা করতে গিয়ে এক্কালীন টাকা যা পেয়েছিলো সব কিছুই হারিয়েছেন। তাছাড়া মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ডে লোন নেওয়াও আছে। পরিবারের আয় বলতে ২০,০০০ টাকা। প্রলয়ের পড়াশুনার খরচ তার বড় ভাই তন্ময় বহন করতেন। পরিবারের যা জমানো ছিল তার প্রায় সবই প্রলয়ের আইসিইউতে থাকা আর চেন্নাই ডাক্তার চেকাপ, আসা যাওয়াতেই শেষ।
এমন সংকটময় অবস্থায় প্রলয়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার মানবিক আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার, বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, সহপাঠী, ও বন্ধু-বান্ধবরা। এছাড়া প্রলয়ের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয়বান ব্যক্তিদের সুদৃষ্টি দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের তার বন্ধু বান্ধবরা বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে ও ক্যাম্পেইন করে টাকা সংগ্রহের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
যার হাসিতে মেতে থাকতো তার পরিবার ও বন্ধুরা। কিন্তু সেই প্রলয়ের সবার মনকাড়া হাসি কি থেমে যাবে? এই পৃথিবীর আলো বাতাসে কি তার নিঃশ্বাস ছড়াবে না? সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য কি হারাবে কুবির এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে। আপনার একটু সহযোগিতাই পারে প্রলয়ের মুখে হাসি ফোটাতে।
বিডি২৪লাইভ/এমআরএম
বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
মার্কেটিং ও সেলসঃ ০৯৬১১১২০৬১২
ইমেইলঃ [email protected]





পাঠকের মন্তব্য: