সম্পাদনা: হৃদয় আলম

কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানি আবশ্যক?

১৬ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৪০:০০

ছবি: প্রতীকী

অনেক ইবাদতের জন্যই সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। যেমন সম্পদহীন ব্যক্তি চাইলে হজ আদায় করতে পারবে না। আবার সম্পদশালী ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা না থাকলেও হজ করতে পারবে না। জাকাত আদায়ে রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা।

কিন্তু কুরবানির মতো আত্মত্যাগের মহান ইবাদত কার কার জন্য প্রযোজ্য? কী পরিমাণ সম্পদ হলে কুরবানি আবশ্যক হয়? এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট বর্ণনা।

ঈদুল আযহা বা ঈদুল আজহা ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি। বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ঈদুল আযহা মূলত আরবী বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। আসলে এটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ত্যাগ করা। এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমত ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী উট, গরু, দুম্বা কিংবা ছাগল কোরবানি বা জবাই দেয়। কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।

হাদিস শরিফে এ ইবাদতের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত ফাতেমা (রা.) কে তার কুরবানির নিকট উপস্থিত থাকতে বলনে এবং ইরশাদ করেন, এই কুরবানির প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তাআলা তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূল্লাহ- এটা কি শুধু আহলেবায়তের জন্য, নাকি সকল মুসলিমের জন্য? উত্তরে নবীজী বললেন, এই ফজিলত সকল মুসলিমের জন্য। (মুসনাদে বাযযার ২/১৫৪)

কার উপর কুরবানী ওয়াজিব

জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ কুরবানি আদায় করতে হয়। এ দিনগুলোতে যারা নিত্য প্রয়োজনীয় সাংসারিক খরচ ছাড়া অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবে তাদের ওপর কুরবানি আদায় করা আবশ্যক।

এ নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো- সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্য কিংবা সাড়ে ৫২ তোলা রূপা কিংবা তার সমমূল্যের সম্পদ থাকা। তবে কুরবানি আবশ্যক হতে এ পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ ১ বছর থাকা শর্ত নয়।

কুরবানি আদায় সম্পর্কে যা জানা জরুরি

যে ব্যক্তি ১০ জিলহজ ফজর হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে উল্লেখিত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবে, ওই ব্যক্তির জন্য কুরবানি আদায় করা আবশ্যক।

পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি বা ফসলের (খাদ্য-শস্য) দরকার; সে পরিমাণ থেকে অতিরিক্ত জমি বা ফসলের মূল্য অথবা যে কোনো একটির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মূল্যের সমান হয়। তাহলেও ওই ব্যক্তির জন্য কুরবানি করা আবশ্যক।

পরিবারের সব সদস্যের যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকে তবে সবার ওপরই কুরবানি করা আবশ্যক।

গরিব ব্যক্তি যদি কুরবানির নিয়তে কুরবানির পশু ক্রয় করে তবে ওই ব্যক্তির ওপর কুরবানি সম্পন্ন করা আবশ্যক।

কোনো ব্যক্তি স্বচ্ছল হোক অস্বচ্ছল হোক কুরবানির মান্নত করলে তা আদায় করাও আবশ্যক।

কোনো ব্যক্তি যত বেশি সম্পদের মালিক হোক না কেন, তার জন্য একটি কুরবানিই আবশ্যক। সম্পদ বেশি বলে একাধিক কুরবানি আদায়ের কোনো বিধান নেই। তবে একাধিক কুরবানিতে রয়েছে অধিক সাওয়াব।

সর্বোপরি, যাদের ওপর ফিতরা দেয়া আবশ্যক; তাদের জন্য কুরবানি আদায় করাও আবশ্যক। অতএব প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্ত বয়স্ক, নিসাব পরিমাণ সম্পদে মালিক, সুস্থ নারী-পুরুষের জন্য কুরবানি আদায় করা আবশ্যক।

সুতরাং সাংসারিক খরচ মেটানের পর জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলেই কুরবানি করা আবশ্যক হবে।

কুরবানীর সময়

মাসআলা: মোট তিনদিন কুরবানী করা যায়। যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সম্ভব হলে যিলহজ্বের ১০ তারিখেই কুরবানী করা উত্তম। -মুয়াত্তা মালেক ১৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৮, ২৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৫

কুরবানির পশুর বয়সসীমা

উট কমপক্ষে ৫ বছরের, গরু ও মহিষ কমপক্ষে ২ বছরের হতে হবে। আর ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে ১ বছরের হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি ১ বছরের কিছু কমও হয় এবং অবশ্যই ৬ মাসের বেশি হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে ১ বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কুরবানি করা জায়েয। ছাগলের ক্ষেত্রে ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কুরবানি জায়েয হবে না।

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমরা দুধের দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত উঠা (মুসিন্না) পশু ব্যতীত জবেহ কর না। তবে কষ্ট হলে ভেড়ার জাযআ তথা ছয়মাস বয়সের ভেড়া জবেহ করতে পার’। (ছহীহ মুসলিম)

ইসলামের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, মহান আল্লাহ তাআলা ইসলামের নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটি কুরবানি করার নির্দেশ দেন। এই আদেশ অনুযায়ী হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার সবচেয়ে প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কুরবানি করার জন্য প্রস্তুত হলে স্রষ্টা তাকে তা করতে বাধা দেন এবং পুত্রের পরিবর্তে পশু কুরবানীর নির্দেশ দেন।

এই ঘটনাকে স্মরণ করে সারা বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে। হিজরি বর্ষপঞ্জি হিসাবে জিলহজ্জ্ব মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে ১২ তারিখ পর্যন্ত ৩ দিন ধরে ঈদুল আজহা চলে। হিজরি চান্দ্র বছরের গণনা অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মাঝে ২ মাস ১০ দিন ব্যবধান থাকে। দিনের হিসেবে যা সবোর্চ্চ ৭০ দিন হতে পারে।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: