সম্পাদনা: সাজিদ সুমন

ডেস্ক এডিটর

পুলিশ ক্যাডেট একাডেমিতে আর নেয়া হবে না নারী পুলিশ!

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৮:৩১:০৯

ছবি: প্রতীকী

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে থাইল্যান্ডের রয়েল পুলিশ ক্যাডেট একাডেমি আর নারী ক্যাডেট ভর্তি করবে না৷ অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে একাডেমি।

পুলিশ বিভাগের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি৷

শত বছরের পুরনো এই পুলিশ একাডেমিতে ২০০৯ সাল থেকে নারী ক্যাডেট নেয়া শুরু হয়েছিল৷ এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন নারী সেখান থেকে পাস করে বের হয়েছেন।

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, একাডেমির সিদ্ধান্ত যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে যেতে থাই মেয়েদের নিরুৎসাহী করে তুলতে পারে৷ ‘থাইল্যান্ডে নারী নিরাপত্তা ও নারীর অধিকারের ক্ষেত্রে এটি একটি পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করেন মানবাধিকার সংস্থা ‘ওমেন অ্যান্ড মেন প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্ট’ এর পরিচালক জাদেত চাউয়িলাই।

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে তিনি বলেন, ‘কোনো নারী পুলিশ কর্মকর্তা না থাকলে পারিবারিক সহিংসতা, হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা হয়রানির ভয়ে পুলিশের কাছে যাওয়া কমিয়ে দেবে।’

জাতিসংঘের সংস্থা ‘ইউএন ওমেন’ এর গত বছরের এক প্রতিবেদন বলছে, থাইল্যান্ডে প্রায় ৯০ শতাংশের মতো ধর্ষণের ঘটনা অপ্রকাশিত থাকে।

জার্মানির ফাউন্ডেশন ‘ফ্রিডরিশ-এবার্ট-স্টিফটুং’ এর থাইল্যান্ড শাখার হিসেবে, থাইল্যান্ডে প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে খুব কম ঘটনাই প্রকাশ পায়৷

প্রসঙ্গত, দেশটিতে বিদ্যমান ধর্ষণ মামলার আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের শিকার নারীর সাক্ষাৎকার নেয়ার কথা একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার।

এই বাস্তবতায় থাইল্যান্ডের আরেকটি মানবাধিকার সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ওমেন’ এর পরিচালক উসা লার্ডসরিসুন্টাড বলছেন, পুলিশ একাডেমির নেয়া সিদ্ধান্ত থাইল্যান্ডের লিঙ্গ সমতায়ন আইনের পরিপন্থি।

তিনি বলেন, ‘এটা লিঙ্গ বৈষম্য৷ এমনিতেই নারী পুলিশ কর্মকর্তার সংখ্যা খুবই কম৷ এই সিদ্ধান্তের কারণে তা আরও কমে যাবে৷’

বিডি২৪লাইভ/এসএস/ওয়াইএ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: