প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

কার ভাগ্যে মিলবে টিকেট, হাইপার টেনশনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা 

১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৪৭:৩৫

ফাইল ফটো

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। রবিবারের (১৮ নভেম্বর) মধ্যে ৩০০ আসনের তালিকা চূড়ান্ত করার পর মঙ্গলবার নাগাদ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। আর এ সময়ে জোটের আসনগুলোতেও প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

অন্যদিকে, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ছোট বড় সব দলের প্রার্থীদের তালিকাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। শেষ মুহুর্তের যাচাই-বাছাই চলছে। আর এই দরকষাকষিতে কার ভাগ্যে জোটে সেই কাঙ্খিত মনোনয়ন, এ নিয়ে বেশ চাপে আছেন সব দলের নেতাকর্মীরা।

শোনা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দলীয় নির্দেশ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদেরকে শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে। যে কোন কঠিন মুহূর্তে জিততে পারে এমন ২২০টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। এরপর জোটের আসনগুলোতেও প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। তবে জোটের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা হলে প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে ২৫ নভেম্বর।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, কমপক্ষে ছয়টি জরিপ সংস্থার রিপোর্ট শেষবারের মতো পর্যালোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেখা গেছে, এক জরিপে কোন প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও আরেক জরিপে পিছিয়ে আছেন। তাছাড়া, বিদেশি জরিপ সংস্থার দু’টি রিপোর্ট পর্যাবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এই সব পর্যবেক্ষণ করে ২২০টি আসনে দলীয় মনোনয়ন তালিকা তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে নেতারা জানান, এখন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন ও তালিকাভুক্ত নেতার গুণগত মিল-অমিল ও জনপ্রিয়তার মাপকাঠি করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে আনা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন এগিয়ে আসছে। প্রার্থী ঘোষণার পর অনেক কাজ থাকে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সঠিক প্রক্রিয়ায় জমা দেয়ার সুযোগটি দিতে হবে। তাই আমরা আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণার কাজটি করতে চাই। এ লক্ষ্যে আমরা ১৮ নভেম্বরের মধ্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করব। এই তালিকা ২০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ঘোষণার প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, জোটের প্রার্থী বাছাই দ্রুত সম্পন্ন হবে। আমরা (আওয়ামী লীগ) ৩০০ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিলেও যেসব আসনে জোটের প্রার্থী থাকবে সেখানে দলীয় প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এ বিষয়ে জানান, আমরা চলতি সপ্তাহে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করলেও ২৫ নভেম্বরের দিকে তা ঘোষণা করা হতে পারে। এর মধ্যে জোটের প্রার্থীও চূড়ান্ত হবে। দুটো পৃথকভাবে ঘোষণা হলে তেমন কোনো সমস্যা নেই।

এর আগে গত বুধবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দুই-তিন দিনের মধ্যে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে অ্যালায়েন্সের (জোটের) সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কাজ শেষ হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে ৩০০ আসনে চার হাজার ২৩ জন নেতা আবেদন করেছেন। গড়ে প্রতিটি আসনে ১২ জন করে প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন।

অন্যদিকে, বিএনপি, ২০ দলীয় জোট (২৩ দলে সম্প্রসারিত) এবং ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের প্রর্থীরাও আছেন বেশ স্নায়ুচাপে। কেননা, ঐক্যফ্রন্টের শরিকরা যে পরিমাণ আসন দাবি করেছে তাতে কতটা সহজে বিষয়টির সমধান বের করতে পারে বিএনপি সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিডি২৪লাইভ/এএইচ

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: