প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

মো. ইলিয়াস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিলেন ড. কামাল

২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০৪:২৮

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমি বলছি না অন্য কোনভাবে নির্বাচন দেন। আপনার যদি সৎ সাহস থাকে, বুকের পাটা থাকে, তবে এখনই পুনর্নির্বাচন দিন। আমি বলি এই দেশের জনগণের আস্থা আপনার সরকারের ওপর বিন্দুমাত্র নাই। চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমাকে মিথ্যুক প্রমাণ করতে হলে ইলেকশন দেন। নির্বাচন কমিশন আমাদের গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।কষক শ্রমিক জনতা লীগ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

ড. কামাল হোসেন বলেন, যতদিন লাগে আমরা আন্দোলনে থাকব। সরকার ঋণের বোঝা বাড়াতে বাড়াতে আমাদের অর্থনীতিকে চুরমার করে দেবে। সেই কারণে আন্দোলন ধীরে ধীরে করা চলবে না। সরকার পরিবর্তন এখনই চাই।

কামাল হোসেন বলেন, সরকারের যে প্রচার হচ্ছে, দেশে অসাধারণ উন্নতি হচ্ছে। আমরা অমুক সনে এই হব, তমুক সনে ওই হব। আমাদের যারা অর্থনীতিবিদ আছেন, যারা পরিসংখ্যানগুলো মিলিয়ে পর্যালোচনা করতে পারেন তারা স্পষ্ট করে বলছেন যে, আমাদের অর্থনীতিকে দেউলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এই কথাটা কাটেন। কিভাবে ঋণ নিতে হচ্ছে, এক টাকার জিনিস চার টাকায়, এক‘শ টাকার জিনিস চার‘শ টাকায় করে যেসব প্রকল্পগুলো হয়েছে। কী মূল্যে কী ঋণে হয়েছে?

তিনি বলেন, সুদের যে বোঝা- এক বছর, দুই বছর, চার বছর পরে যোগ করে দেখি- এই ঋণের বোঝা সামলানোর কত কঠিন হবে- একবার ভাবুন। আমি আজকে দাবি জানাচ্ছি, যেসব উন্নয়নের কথা বলছেন, যেসব প্রকল্পের কথা বলছেন-মূল্য বলেন, ঋণ বলেন, ঋণ শোধ করতে কতদিন লাগবে- এসব তথ্য আমাদেরকে দিন। উন্নয়নের প্রকল্পের হিসাব জনগণকে দেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, যখনই তথ্যগুলো দেয়া হয়, অসাধারণ উন্নতি। আমার মনে পড়ে পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়া খানের সময়ে এসব উন্নয়নের বক্তৃতা শুনে বঙ্গবন্ধু ধিক্কার দিয়েছিল- কিসের উন্নতির কথা তারা বলছে। আমাদের দেশকে তো শেষ করে দিচ্ছে। আইয়ুব খান অহংকারের সাথে বলতো আমি চারিদিকে উন্নয়ন করে দিচ্ছি। উন্নয়ন শব্দটা আমাদের কাছে, বঙ্গবন্ধুর কাছে ওই সময়ে ঘৃণিত শব্দ হয়েছিল। উন্নয়ন শব্দটা কী ধরনের ঘৃণার শব্দ হয় যখন স্বৈরাচার এটাকে ব্যবহার করে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিতে ঘুরানোর জন্য।

গণফোরামের সভাপতি বলেন, আজকে উন্নয়নের মূল্যটা কীভাবে করা হচ্ছে? প্রথমত যদি হতো আমাদের ওপর ঋণের বোঝা চাপানো হবে না, ঋণের বোঝা বাড়তে থাকবে না তাহলে ঠিক ছিলো। কিন্তু তারা যে প্রকল্পের ঋণ নিচ্ছে আমি বলতে পারি তাদের কাছ থেকে এসব তথ্য পাবেন না।

কৃষক শ্রমিক জনত লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকার পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বিডি২৪লাইভ/এমই/এমআর

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: