হাবিবুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

সৎ মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায়...

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২০:৩২:০০

ছবি: সংগৃহীত

আমিতো উনাকে বাবা বলে ডাকি, একজন মানুষকে বাবা ডাকার পরেও যদি তার কাছে নিরাপত্তা না পাই! আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। তাহলে পৃথিবীর কোথায় নিরাপত্তা পাবো? আমাকে কেউ বলতে পারেন। সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই নেক্কার জনক ঘটনার বিবরণ দেন অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ বছর আগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের গনি মিয়ার মেয়ে হেপি আক্তারকে (৩০) পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন মুরাদনগর উপজেলার গকুলনগর গ্রামের জাকির হোসেন (৪০)। বিয়ের দু’বছর পর হেপি আক্তারের ছোট বোন মর্জিনা আক্তারের বিয়ে হয় শিবপুর গ্রামের আলীম মিয়ার ছেলে জিবন মিয়ার সাথে। এরপর এক কন্যা সন্তান ও এক পুত্র সন্তানের মা হন মর্জিনা আক্তার। পরে গত ৮ বছর আগে মর্জিনা তার স্বামীর বাড়িতে বড় বোনের জামাই জাকির হোসেনের সাথে অপ্রীতিকর অবস্থায় ধরা পরেন। এ খবর জানাজানি হলে স্থানীরা জাকির হোসেনের সাথে মর্জিনার বিয়ে দিয়ে দেন।

তারপর থেকে মর্জিনা তার দুই সন্তানকে নিয়ে জাকির হোসেনের সাথে উপজেলার নবীপুর (পূর্ব) ইউনিয়নের গুঞ্জর উত্তর পারা গ্রামে বসবাস করে আসছিলো। গত কয়েক দিন ধরে জাকির হোসেন ফোনে তার সৎ মেয়েকে (১৬) বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তাতে সে রাজি না হওয়ায় গত সোমবার (২২ এপ্রিল) রাতে জাকির হোসেন মর্জিনা আক্তার ও তার মেয়ে (১৬)কে শরবতের সাথে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

পরে মেয়ে বিষয়টি বুজতে পেরে তাকে বাধা দিলে জাকির তাকে বেধরক মারধর করেন এতে মর্জিনা সজাগ হয়ে বাধা দিলে মর্জিনাকেও জাকির মারধর করে সৎ মেয়ের (১৬) পরনের কাপড় ছিরে ফেলে।

এরপর মর্জিনার সহযোগিতায় মেয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বাইরে গিয়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে মেয়েটি জাকিরের বড় স্ত্রী হেপি আক্তারের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে হেপি আক্তার বলেন, ঘটনার সময় আমি গকুলনগর আমার স্বামীর বাড়িতে ছিলাম। এ ঘটনা শুনতে পেয়ে সকালে আমি আমার বাবার বাড়িতে এসে আমার ছোট বোনের মেয়েকে নিয়ে সকাল ১০টার দিকে মুরাদনগর থানায় যাবার পথে জাকির ও এলাকার কিছু ক্ষমতাধর লোকজন আমাদেরকে বাধা দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলে। এবং জানায় তারা বসে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে দিবে। আমি রাজি না হওয়ায় জাকির আমাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে। তাদের ভয়ে এখন ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছিনা।

এ ব্যাপারে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মনজুর আলম বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই, আর এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিডি২৪লাইভ/এইচকে

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: