প্রচ্ছদ / বিনোদন / বিস্তারিত

আজ মহানায়ক মান্নার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ০৪:১৬ অপরাহ্ণ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

নাহিয়ান ইমন,
বিনোদন প্রতিবেদক, বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম:

কিছু কিছু মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও যেন অমর হয়ে থাকেন সকলের মাঝে। চিত্রনায়ক মান্নাও তার ব্যতিক্রম নন। দক্ষ অভিনেতা চিত্রনায়ক মান্না মারা গেলেও আজও যেন বেঁচে আছেন লাখো ভক্তের হৃদয়ের মণিকোটায়।

১৯৮৪ সাল নাগাদ চিত্রনায়ক মান্না ‘নতুন মুখের সন্ধানের’ মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে পা রাখেন। এস এম আসলাম তালুকদার নামের সেই কিশোর হয়তো আদেও জানত না তিনিই হতে যাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়ক মান্না। এরপর থেকে একের পর এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশি দিন সময় লাগেনি মান্নার।

মান্না অভিনীত প্রথম ছবি তওবা, তবে প্রথম মুক্তি পেয়েছিল ‘পাগলি’ ছবিটি। নায়ক মান্না প্রায় পাঁচ শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেন। তিনি বঞ্চিত মানুষের কথা সিনেমার পর্দায় সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন যার ফলে তিনি নিরুঙ্কুস জনপ্রিয়তা লাভ করেন। নব্বই দশকে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণের ধারা শুরু হলে যে ক’জন প্রথমেই এর তীব্র প্রতিবাদ ও এর ঘোর বিরোধী ছিলেন,তাদের মধ্যে নায়ক মান্না ছিলেন অন্যতম। রীতিমতো যুদ্ধ করেছেন অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে। এসব চলচ্চিত্রের নির্মাতাদের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিলেন। দাঙ্গা,লুটতরাজ, তেজী, আম্মাজান, পিতা মাতার আমানত, মনের সাথে যুদ্ধ, মায়ের মর্যাদা,বীর সৈনিক,ভাইয়া,আমি জেল থেকে বলছি,দুই বধু এক স্বামী,বশিরা প্রভৃতি ছাড়াও আরো বহু চলচ্চিত্রে চমৎকার অভিনয় এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তার চূড়া ছুঁয়েছিলেন মান্না। তাঁর অভিনীত আম্মাজান চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কিন্তু হঠাৎ বিধাতার ডাকে সাড়া দিয়ে মান্না পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ২০০৮ সালের আজকের দিনে (১৭ ফেব্রুয়ারি) পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক মান্না।এরই মাঝে পার হয়ে গেছে সাতটি বছর। বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীরা এখনও হাড়ে-হাড়ে অনুভব করেন তার অনুপস্থিতি।

চিত্রনায়ক মান্না কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০৬ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র এবং মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ছিলেন প্রতিবাদি ও নিবেদিত প্রাণ। মৃত্যুর আগপর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক। কীর্তিমান এই অভিনেতা ২০০৮ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে অকালে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুর কাছে নিজেকে সমর্পন করেন। চিকিৎসকদের অবহেলা না হলে মান্নাকে অকালে হারাতে হতো না বলে মনে করেন তার সহধর্মিনী শেলী মান্না।

মান্নার মত একজন আপাদমস্তক জাত অভিনেতা, চলচ্চিত্র প্রেমী, চলচ্চিত্র ও সাংস্কতিমনা নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্বকে হারিয়ে ধুকে ধুকে চলচ্চিত্র শিল্প আজকে তার অনুপস্থিতি সেয়ানে সেয়ানে অনুভব করছে।

১৯৬৪ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্ম নেয়া মান্নাকে সমাহিত করা হয় তার জন্মস্থান টাঙ্গাইলেই।

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য: