হাটহাজারীর রত্ন মধ্য যুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি রহিমুন্নিসার জীবনী

২৪ মার্চ, ২০১৫ ১৯:০৫:২৮

মো: আলাউদ্দীন, হাটহাজারী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজলার খ্যাতনামা জমিদার মেখল গ্রামের রহিমপুর নিবাসী জান আলী চৌধুরীর পুত্র বধূ কবি রহিমুন্নিসা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।

মহাজ্ঞানী ডক্টর মুহাম্মদ এনামুল হক অনুমান করেছেন কবি রহিমুন্নিসার আবির্ভাবকাল ১৭৬৩-১৮০০ সালে। এই কবির জন্মস্থান চট্টগ্রাম হলেও তার পিতৃকুল চট্টগ্রামের প্রাচীন বসিন্দা ছিলেন না। তার দাদা অর্থাৎ পিতা সহ বিহার প্রদেশের অন্তগর্ত মুঙ্গেরের অধিবাসী ছিলেন। মুঙ্গের ফিরিঙ্গী ইংরেজদের সাথে মুসলমানদের যুদ্ধ বাঁধলে তার পিতা সহ চট্টগ্রামে হিজরত করেন এবং জঙ্গলী শাহ নাম ধারাণ করে আত্মগোপন করেন। এই জঙ্গলী শাহের এক মাত্র পুত্র আব্দুল কাদের শা’র কন্যা ছিলেন রহিমুন্নিসা। অল্প বয়সে পিতৃহারা হয়ে রহিমুন্নিসার লেখাপড়ার ভার পড়ে বিদুষী জননীর উপর।

বয়োপ্রাপ্তির পর ১৮৬০ সালে তার ভাইয়ের বিশিস্ট মুরীদ হাটহাজারী উপজলার খ্যাতনামা জমিদার মেখল গ্রাম যার বর্তমান নাম রহিমপুর নিবাসী জান আলী চৌধুরীরর প্রথম পুত্র কাব্য পিপাসু আহম্মদ আলী চৌধুরীর সাথে রহিমুন্নিসার বিবাহ হয়। তার দাদা শুশুরের নাম গোলাম হোসেন চৌধুরী। শুশুরের নাম জান আলী চৌধুরী, স্বামীর নাম আহমদ আলী চৌধুরী, তারা সেখানকার পুরুষানুক্রমিক স্বনামখ্যাত-খ্যাতনামা জমিদার ও সম্ভ্রান্ত শেখ খান্দানের লোক ছিলেন। স্বামী আহমদ আলী চৌধুরী সম্বন্ধে রহিমুন্নিসা তার পরিচয়মুলক কাব্যে বলেছেন তিনি যেমন রসরাজ তেমনি ধার্মিক ছিলেন।

বলাবাহুল্য চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার অন্তর্গত মেখল গ্রামের জান আলী চৌধুরীদের বাড়ী একটি প্রাচীন অভিজাত ঘর । শিক্ষা, দীক্ষা, সংস্কৃতি ও আর্থিক সচ্ছলতায় তখন ও এই বাড়ির প্রাচীন প্রতিষ্ঠা সম্পূর্ণ অবলুপ্ত হয় নাই।

কবি রহিমুন্নিসার বংশধর সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ক্যাডেষ্ট্রান জরিপের সময় রহিমুন্নিসার পুত্র শেখ সিদ্দিক আহমদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাফরাবাদ নাম বিলুপ্ত করে তার মাতা রহিমুন্নিসার নামে রহিমপুর মৌজা বা রহিমপুর গ্রাম নামে জরিপ পরিমিত করা হয়। সেই অনুসারে গ্রামের নামকরন করা হয় রহিমপুর গ্রাম। মহিলা কবি রহিমন্নিসার দু”কন্যা ও একপুত্র। সামেয়ান খাতুন ও দোরদানা খাতুন এবং পুত্র সিদ্দিক আহমদ চৌধুরী। সিদ্দিক আহমদ চৌধুরীর চার পুত্র ও তিন কন্যা।

কবি রহিমুন্নিসা ছোটকালে বিদুষী জননীর পরিচালনায় জনৈক পন্ডিত আবুল হোসেনের হাতে লেখাপড়া শিখে পান্ডিত্য অর্জন করেন এবং কাব্য রচনায় আত্ম নিয়োগ করেন।

তার রচনাবলীর মধ্যে (১) আত্ম বিবরনী (৪৮ শ্লোকে রচিত) (২) শোক সঙ্গতি, সেই সময় কার রেওয়াজে “বারমাসী আকারে ২০ টি শ্লোকে এবং উহার অন্য নাম দোরদানা বিলাপ”।

বাংলাদেশ বিখ্যাত অনেক গুনী লেখক গণের বিভিন্ন গ্রন্থের মধ্যে মুসলিম মহিলা কবি রহমিুন্নিসার জীবনী আলোকপাত করা হয়েছে।

বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মতামত: