বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ছোট পাখির চমকপ্রদ তথ্য
এস. এস আহমেদ,
পশু-পাখি সম্পর্কে আদিকাল থেকেই যেন পৃথিবীর মানুষ জানা এবং দেখার বিষয়ে আগ্রহী। পুরো বিশ্বের মধ্যে কোন পাখি সবচেয়ে বড় এবং কোন পাখিটি সবচেয়ে ছোট এ সম্পর্কে আজ জানবো আমরা। যদিও আমরা অনেকেই পৃথিবীর এই বড় এবং ছোট পাখি সম্পর্কে জানি, তবে আজ জানবো এই প্রকার পাখির বিষয়ে কিছু চমকপ্রদ এবং বিস্তারিত তথ্য।
উট পাখি হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাখি। যদিও এরা সবচেয়ে বড় পাখি কিন্তু এদের ওড়ার ক্ষমতা নেই। তবে দারুণ জোরে ছুটতে পারে এরা। উট পাখিরা ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।

এদেরকে সাধারণত আফ্রিকাতে পাওয়া যায়। এদের উচ্চতা প্রায় ৩ মিটার আর ওজন ১৫০ কেজিরও বেশি হতে পারে। এদের রয়েছে বিশাল বিশাল পাখা।পুরোটা মেলে ধরলে প্রায় ৭ ফুট হবে এর দৈর্ঘ্য। এই বড় বড় পাখার জন্যই তো এরা উড়তে না পারলেও পাখি।
পুরুষ পাখিগুলোর পাখার রং হয় কালো। এর সঙ্গে থাকে সাদা লেজ। মেয়েগুলোর পাখার রং হয় ধূসর বাদামি। বলতেই পার যে এত বড় পাখা থাকার পরও কেন এরা উড়তে পারে না? কারণ এদের শরীরের ওজন অনেক বেশি। এত বেশি ওজন নিয়ে ওড়ার মতো শক্তি তাদের ওই বড় পাখাতেও নেই। এজন্যই এরা উড়তে পারে না।
উট পাখিদের এত জোরে ছুটতে পারার ক্ষমতার জন্য এদের দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। এই প্রতিযোগিতা নিয়ে মানুষরা আবার অনেক আনন্দ করে থাকে। উট পাখির মতোই এর ডিমও অনেক বড় হয়ে থাকে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ডিম এই উট পাখিরই। অন্য কোন প্রাণী আর এত বড় ডিম পাড়ে না। এদের একেকটা ডিমের ওজন হয়ে থাকে ১.৫ কেজি। আর এই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় ৩৫ থেকে ৪০ দিনে।
দেখতে অনেক বড়সড় হলেও উট পাখিরা কিন্তু মোটেও হিংস্র নয়। এদের প্রধান খাদ্য হলো বিভিন্ন শস্যদানা। কোন কোন সময় অবশ্য এরা পোকামাকড়ও খেয়ে থাকে। এদের তো দাঁত নেই। সে জন্য খাবার খাওয়ার সময় উট পাখিরা কিছু পাথর খেয়ে নেয়। এই পাথর এদের পাকস্থলীতে খাদ্যদানা হজমে পেষার কাজটি করে। অদ্ভূত হলেও সত্যি যে একটি পূর্ণাঙ্গ উট পাখি এদের পাকস্থলীতে ১ কেজি পাথর খেয়ে ঘুরে বেড়াতে পারে।
এবার বলব পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট পাখির কথা, আমরা অনেকেই জানি পৃথিবীর সবচেয়ে পাখিটির না্ম হচ্ছে ছোট্ট সুন্দর পাখি হামিং বার্ড।ছোট্ট এই সুন্দর পাখিটা যেমন সুন্দর দেখতে তেমনি এর রয়েছে নানা মজার মজার জানা অজানা বিষয়ও। এখন জানব পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট পাখি হামিং বার্ড এর কথা।
হ্যাঁ, অতীব সুন্দর ছোট্ট একটি পাখি। পখিটার সাইজ মাত্র ৭ থেকে ১৩ সেন্টিমিটার, অথচ প্রতি সেকেন্ডে এরা ১২ থেকে ৯০ বার ডানা ঝাঁপটাতে পারে। আরও অবাক করার বিষয় তারা ঘণ্টায় ৫৪ কিমি উড়তে পারে।
মজার তথ্য হলো হামিংবার্ড-ই একমাত্র পাখি যারা পিছন দিকেও উড়তে পারে । এছাড়া শীত সহ্য করতে পারে না বলে এদের কিছু প্রজাতি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ উড়ে গিয়ে আশ্রয় নেয় গরমের দেশে ।
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়া পৃথিবীর আর কোন মহাদেশে এদের দেখা যায় না৷ ইতিহাস থেকে জানা যায়, নাবিক কলম্বাস যখন জাহাজে চেপে আমেরিকার উপকূলবর্তী দ্বীপে পৌঁছেছিলেন, তখন এই নতুন দেশের ছোট্ট পাখি দেখে বোকা বনেছিলেন৷ ফুলের সামনে উড়ে বেড়ানো এ পাখিটিকে দেখে তার সাথিরা অনেকেই অজানা পোক ভেবে ভুল করেছিলেন৷
পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট হামিংবার্ড পাওয়া সময় কিউবায়৷ এদের ওজন দুই গ্রামেরও কম৷ লম্বায় আড়াই ইঞ্চির বেশি নয়৷ এদের ডিমের আকৃতি মটর ডালের দানার মতো৷
সারা ইউরোপে হামিংবার্ড নামের ছোট্ট এ পাখিটির খবর ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি৷ হার্মিংবার্ডের রঙিন পালকেরা লোভে মানুষ এদের শিকার করতে শুরু করে৷ আর এর জন্য বেশকিছু প্রজাতির হামিংবার্ডের প্রজাতি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে৷ তবে আশার কথা একটাই, উত্তরে আলাঙ্কা থেকে দৰিণে আর্জেন্টিনা পর্যনত্ম ৩০০-রও বেশি প্রজাতি রয়েছে৷
হামিংবার্ডের প্রধান খাদ্য ফুলের মধু৷ এরা ফুলের সামনে হাওয়ায় ভেসে থেকে ঠোঁট ঢুকিয়ে মধু খায়৷ লম্বা সরু ঠোঁট ফুলের মধ্যে থেকে মধু খেতে সাহায্য করে৷ তবে মাঝে-মধ্যে ছোট পোকা বা মাকড়সাও খায় এরা৷ হামিংবার্ডদের খাবার হজম করার ক্ষমতা অবিশ্বাস্যরকম৷ সারাদিন এরা নিজের শরীরের ওজনের সমান খাবার খেতে পারে।
বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯১
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬৭৮৬৭৭১৯০
মার্কেটিং ও সেলসঃ ০৯৬১১১২০৬১২
ইমেইলঃ [email protected]





পাঠকের মন্তব্য: